পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२४”० রবীন্দ্র-রচনাবলী চুপ করিয়া দাড়াইল। কত যুগের কত মৃত্যুকালের সাক্ষী ঐ তারাগুলি যতীনের মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল। যতীন এই বৃহৎ অন্ধকারের পটের উপর তাহার মণির মুখখানি দেখিতে পাইল । সেই মুখের ডাগর দুটি চক্ষু মোটা মোট জলের ফোটায় ভরা— সে জল যেন আর শেষ হইল না, চিরকালের জন্ত ভরিয়া রহিল । অনেকক্ষণ সে চুপ করিয়া আছে দেখিয়া মাসি নিশ্চি স্তু হইলেন। ভাবিলেন, যতীনের ঘুম আসিয়াছে। এমন সময় হঠাৎ সে বলিয়া উঠিল, “মালি, তোমরা কিন্তু বরাবর মনে করে এসেছ, মণির মন চঞ্চল, আমাদের ঘরে ওর মন বসে নি । কিন্তু দেখো—“ “ন, বাবা, ভুল বুঝেছিলুম— সময় হলেই মানুষকে চেনা যায়!” “মালি!” "যতীন, ঘুমোও, বাবা।” “আমাকে একটু ভাবতে দাও, একটু কথা কষ্টতে দা ও ! বিরক্ত হোয়ে না মাসি।” *আচ্ছা, বলো, বাবা।” *আমি বলছিলুম, মানুষের নিজের মন নিজে বুঝতেই কত সময় লাগে! একদিন যখন মনে করতুম, আমরা কেউ মণির মন পেলুম না, তখন চুপ ক’রে সহ করেছি। তোমরা তখন—*

  • ন, বাবা, অমন কথা বোলো না— আমিও সহ করেছি * “মন তো মাটির ঢেলা নয়, কুড়িয়ে নিলেই তো নেওয়া যায় না। আমি জানতুম, মণি নিজের মন এখনো বোঝে নি; কোনো একটা আঘাতে যেদিন বুঝবে সেদিন অণর—*

“ठेिक कथा, घडौन ।” “সেইজন্যই ওর ছেলেমামুষিতে কোনোদিন কিছু মনে করি নি।” মাসি এ কথার কোনো উত্তর করিলেন না ; কেবল মনে মনে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিলেন। কতদিন তিনি লক্ষ্য করিয়াছেন, যতীন বারান্দায় আসিয়া রাত কাটাইয়াছে, বৃষ্টির ছাট আসিয়াছে তবু ঘরে যায় নাই। কতদিন সে মাথা ধরিয়া বিছানায় পড়িয়া ; একান্ত ইচ্ছা, মণি আসিয়া মাথায় একটু হাত বুলাইয়া দেয়। মণি তখন সর্থীদের সঙ্গে দল বাধিয়া থিয়েটার দেখিতে যাইবার আয়োজন করিতেছে । তিনি যতীনকে পাখা করিতে আসিয়াছেন, সে বিরক্ত হইয় তাহাকে ফিরাইয়া দিয়াছে। সেই বিরক্তির মধ্যে কত বেদন তাহা তিনি জানিতেন । কতবার তিনি যতীনকে বলিতে চাহিয়াছেন,