পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ २४rs ‘বাৰা, তুমি ঐ মেয়েটার দিকে অত বেশি মন দিয়ে না— ও একটু চাহিতে শিখুক— মানুষকে একটু কাদানে চাই।' কিন্তু এ-সব কথা বলিবার নহে, বলিলেও কেহ বোঝে না । যতীনের মনে নারীদেবতার একটি পীঠস্থান ছিল, সেইখানে সে মণিকে বলাইয়াছে। সেই তীর্থক্ষেত্রে নারীর অমৃতপাত্র চিরদিন তাহার ভাগ্যে শূন্ত থাকিতে পারে, এ কথা মনে করা তাহার পক্ষে সহজ ছিল না। তাই পূজা চলিতেছিল, অৰ্ঘ্য ভরিয়া উঠিতেছিল, বরলাভের আশা পরাভব মানিতেছিল না। মালি যখন আবার ভাবিতেছিলেন, যতীন ঘুমাইয়াছে এমন সময়ে হঠাৎ সে বলিয়া উঠিল, “আমি জানি, তুমি মনে করেছিলে, মণিকে নিয়ে আমি মুখী হতে পারি নি। তাই তার উপর রাগ করতে । কিন্তু, মাসি, মুখ জিনিসটা ঐ তারাগুলির মতে, সমস্ত অন্ধকার লেপে রাখে না, মাঝে মাঝে মণক থেকে যায়। জীবনে কত ভুল করি, কত ভুল বুঝি, তবু তার ফঁাৰে ফাকে কি স্বর্গের আলো জলে নি। কোথা থেকে আমার মনের ভিতরটি আজ এমন আননো ভরে উঠেছে।” মালি আস্তে আস্তে যতীনের কপালে হাত বুলাইয়া দিতে লাগিলেন । অন্ধকারে র্তাহার দুই চক্ষু বাহিয়া যে জল পড়িতেছিল তাহ কেহ দেখিতে পাইল না। “আমি ভাবছি, মালি, ওর অল্প বয়স, ও কী নিয়ে থাকবে।” “অল্প বয়স কিসের, যতীন ? এ তে ওর ঠিক বয়স । আমরাও তে, বাছা, অল্প বয়সেই দেবতাকে সংসারের দিকে ভাসিয়ে অন্তরের মধ্যে বসিয়েছি— তাতে ক্ষতি হয়েছে কী । তাও বলি, স্বথেরই বা এত বেশি দরকার কিসের ”

  • মালি মণির মনটি ষেই জাগবার সময় হল অমনি আমি—” “ভাব কেন, যতীন ? মন যদি জাগে তবে সেই কি কম ভাগ্য ।”

হঠাৎ অনেক দিনের শোনা একটা বাউলের গান যতীনের মনে পড়িয়া গেল— ওরে মন, যখন জাগলি না রে তখন মনের মানুষ এল দ্বারে । তার চলে যাবার শবদ শুনে ভাঙল রে ঘুম, ও তোর ভাঙল রে ঘুম অন্ধকারে । “মাসি, ঘড়িতে ক'টা বেজেছে ।”

  • ন’টা বাঞ্জবে.।” *সবে ন’টা? আমি ভাবছিলুম, বুঝি দুটো, তিনটে, কি ক’টা হবে । সন্ধ্যার পর

\이》s