পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী فان ماذج " জীবন-জাহাজের সঙ্গে বাধা ছিল ; আজ যেন বাধন কাটা পড়েছে, সে আমার সব বোঝা নিয়ে দূরে ভেসে চলল। এখনও তাকে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু তাকে যেন আর আমার বলে মনে হচ্ছে না— এ দুদিন মণিকে একবারও দেখি নি, মাসি ।” “পিঠের কাছে আর-একটা বালিশ দেব কি, যতীন।” *আমার মনে হচ্ছে, মালি, মণিও যেন চলে গেছে । আমার বাধন-ছেড়া দুঃখের নৌকাটির মতো।” “বাবা, একটু বেদানার রস খাও, তোমার গলা শুকিয়ে আসছে।” *আমার উইলট কাল লেখা হয়ে গেছে— সে কি আমি তোমাকে দেখিয়েছি— ঠিক মনে পড়ছে না।”

  • আমার দেখবার দরকার নেই, যতীন ।” “মা যখন মারা যান আমার তো কিছুই ছিল না । তোমার খেয়ে তোমার হাতে আমি মাতুষ । তাই বলছিলুম—”

“সে আবার কী কথা । আমার তো কেবল এই একখানা বাড়ি আর সামান্ত কিছু সম্পত্তি ছিল । বাকি সবই তো তোমার নিজের রোজগার ।” “কিন্তু এই বাড়িটা-—” “কিসের বাড়ি আমার ! কত দালান তুমি বাড়িয়েছ, আমার সেটুকু কোথায় আছে খুজেই পাওয়া যায় না।” “মণি তোমাকে ভিতরে ভিতরে খুব—” “সে কি জানি নে, যতীন । তুই এখন ঘুমো।” “আমি মণিকে সব লিখে দিলুম বটে, কিন্তু তোমারই সব রইল, মালি । ও তো তোমাকে কখনো অমান্য করলে না ।* "সেজন্যে অত ভাবছ কেন, বাছা ।” “তোমার আশীর্বাদেই আমার সব, তুমি আমার উইল দেখে এমন কথা কোনোদিন মনে কোরো না—” “ও কী কথা যতীন । তোমার জিনিস তুমি মণিকে দিয়েছ বলে আমি মনে করব ? আমার এমনি পোড়া মন ? তোমার জিনিস ওর নামে লিখে দিয়ে যেতে পারছ বলে তোমার যে-স্বথ সেই তো আমার সকল মুখের বেশি, বাপ ।” “কিন্তু, তোমাকে ও আমি—” “দেখ, যতীন, এইবার আমি রাগ করব। তুই চলে যাবি, আর তুই আমাকে টাকা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে যাবি ?* ,