পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ ఇపెళి অপরিচিত আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র । এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, ন গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতে যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বলিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে। সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটে, তাহাৰে ছোটো করিয়াই লিখিব । ছোটোকে যাহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাহারা ইহার রস বুঝিবেন। কলেজে যতগুলা পরীক্ষা পাস করিবার সব আমি চুকাইয়াছি। ছেলেবেলায় আমার মুন্দর চেহারা লইয়া পণ্ডিতমশায় আমাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সহিত তুলনা করিয়া বিদ্রুপ করিবার স্থযোগ পাইয়াছিলেন। ইহাতে তখন বড়ো লজ্জা পাইতাম ; কিন্তু বয়স হইয়া এ কথা ভাবিয়াছি, যদি জন্মান্তর থাকে তবে আমার মুখে স্বরূপ এবং পণ্ডিতমশায়দের মুখে বিদ্রুপ আবার ৰেল এমনি করিয়াই প্রকাশ পায় । আমার পিতা এককালে গরিব ছিলেন। ওকালতি কৰিয়া তিনি প্রচুর টাকা রোজগার করিয়াছেন, ভোগ করিবার সময় নিমেষমাত্রও পান নাই। মৃত্যুতে তিনি ঘে হাফ ছাড়িলেন, লেই তার প্রথম অবকাশ । আমার তখন বয়স অল্প। মার হাতেই আমি মানুষ । মা গরিবের ঘরের মেয়ে ; তাই, আমরা যে ধনী এ কথা তিনিও ভোলেন না, আমাকেও ভুলিতে দেন না। শিশুকালে আমি কোলে কোলেই মানুষ— বোধ করি, সেইজন্য শেষপর্যন্ত আমার পুরাপুরি বয়সই হইল না। আজও আমাকে দেখিলে মনে হইবে, আমি অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি। আমার আসল অভিভাবক আমার মামা । তিনি আমার চেয়ে বড়োজোর বছর ছয়েক বড়ো। কিন্তু ফন্তুর বালির মতো তিনি আমাদের সমস্ত সংসারটাকে নিজের অস্তরের মধ্যে শুষিয়া লইয়াছেন। তাহাকে না খুড়িয়া এখানকার এক গওযও রস পাইবার জো নাই। এই কারণে কোনো কিছুর জন্তই আমাকে কোনো ভাবনা ভাবিতেই श्ब्र नीं । কঙ্কার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন, আমি সংপাত্র। তামাকটুকু পর্যন্ত খাই না। ভালোমানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্চাট নাই, তাই আমি নিতান্ত ভালোমাঙ্গুষ। মাতার আদেশ মানিয়া চলিবার ক্ষমতা আমার আছে— বস্তুত না-মানিবার ক্ষমতা আমার