পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ סלט একদিন যখন বেলা দশটা— অস্তঃপুরে যখন বাটি, বারকোষ, ধাম, চুপড়ি, শিলনেড়িা ও পানের বাক্সের ভিড় জমাইয়া ঘরকন্নার বেগ প্রবল হইয়া উঠিয়াছে—এমন সময় ংসারের সমস্ত ব্যস্ততা হইতে স্বতন্ত্র হইয়া জানালার কাছে ষোড়শী আপনার উদাস মনকে শূন্ত আকাশে দিকে দিকে রওনা করিয়া দিতেছিল। হঠাৎ ‘জয় বিশ্বেশ্বর" বলিয়া হাক দিয়া এক সন্ন্যাসী তাহাদের গেটের কাছে অশথতলা হইতে বাহির হইয়া আসিল । ষোড়শীর সমস্ত দেহতত্ত্ব মীড়টানা বীণার তারের মতো চরম ৰ্যাকুলতায় বাজিয়া উঠিল। সে ছুটিয়া আসিয়া পিসিকে বলিল, “পিলিমা, ঐ সন্ন্যাসীঠাকুরের ভোগের আয়োজন করে ।” এই শুরু হইল। সন্ন্যাসীর সেবা ষোড়শার জীবনের লক্ষ্য হইয়া উঠিল। এতদিন পরে শ্বশুরের কাছে বধূর আবদারের পথ খুলিয়াছে। মাখন উৎসাহ দেখাইয়া বলিলেন, বাড়িতে বেশ ভালোরকম একটা অতিথিশালা খোল চাই। মাখনবাবুর কিছুকাল হইতে আয় কমিতেছিল ; কিন্তু তিনি বারে। টাকা স্বদে ধার করিয়া সৎকর্মে লাগিয়া গেলেন । সন্ন্যাসীও যথেষ্ট জুটিতে লাগিল। তাদের মধ্যে অধিকাংশ যে খাটি নয়, মাথনের সে বিষয়ে সন্দেহ ছিল না । কিন্তু বউমার কাছে তার আভাস দিবার জো কী ! বিশেষভ জটাধারীরা যখন আহার-আরামের অপরিহার্য ক্রটি লইয়া গালি দেয়, অভিশাপ দিতে ওঠে, তখন এক-একদিন ইচ্ছা হইত, তাদের ঘাড়ে ধরিয়া বিদায় করিতে । কিন্তু ষোড়শীর মুখ চাহিয়া তাহদের পায়ে ধরিতে হইত। এই ছিল তার কঠোর প্রায়শ্চিত্ত । সন্ন্যাসী আসিলেই প্রথমে অস্তঃপুরে একবার তার তলব পড়িত। পিসি তাকে লইয়৷ বলিতেন, ষোড়শী দরজার আড়ালে দাড়াইয়া দেখিত । এই সাবধানভার কারণ ছিল এই, পাছে সন্ন্যাসী তাকে প্রথমেই মা বলিয়া ডাকিয়া বসে। কেননা, কী জানি !— বরদার যে-ফোটোগ্রাফ খানি ষোড়শীর কাছে ছিল সেটা তার ছেলে বয়সের । সেই বালক-মুখের উপর গোফাড়ি জটাজট ছাইভস্ম যোগ করিয়া দিলে সেটার যে কিরকম অভিব্যক্তি হইতে পারে তা বলা শক্ত। কতবার কত মুখ দেখিয়া মনে হইয়াছে, বুঝি কিছু কিছু মেলে ; বুকের মধ্যে রক্ত দ্রুত বহিয়াছে, তার পরে দেখা যায়— কণ্ঠস্বরে ঠিক মিল নাই, নাকের ডগার কাছটা অন্যরকম । এমনি করিয়া ঘরের কোণে বসিয়াও নূতন নূতন সন্ন্যাসীর মধ্য দিয়া ষোড়শী যেন বিশ্বজগতে সন্ধানে বাহির হইয়াছে । এই সন্ধানই তার স্থখ । এই সন্ধানই তার স্বামী, তার জীবনযৌবনের পরিপূর্ণতা। এই সন্ধানটিকেই বেরিয়া তার সংসারের সমস্ত 놀이》