পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে । ይፃS এই যদি উপনিষদের চরম কথা হয় তবে কি ঋষি বলিতে চান, জগতে পাপ নাই, দুঃখ নাই, রেষারেষি নাই ? আমরা তো ঐ গুলোর উপরেই বেশি করিয়া জোর দিতে চাই নহিলে মানুষের চেতন হইবে কেমন করিয়া । উপনিষং ইহার উত্তর দিয়াছেন, কে হোবান্তাৎ ক: প্রাণ্যাং যদেষ আকাশ আনন্দো ন স্যাৎ। কেইবা শরীরের চেষ্টা প্রাণের চেষ্টা করি ত— অর্থাৎ, কেইবা দুঃখধন্দা লেশমাত্র স্বীকার করিত— আননা যদি আকাশ ভরিয়া না থাকিত। অর্থাৎ, আননাই শেষ কথা বলিয়াই জগৎ দুঃখদ্বন্দ্ব সহিতে পারে। শুধু তাই নয়, দুঃখের পরিমাপেই আনন্দের পরিমাপ। আমরা প্রেমকে ততখানিই সভ্য জানি যতখানি সে দুঃখ বহন করে । অতএব, দুঃখ uত অাছেই কিন্তু তাহার উপরে আনন্দ আছে বলিয়াই সে আছে। নহিলে কিছুই থাকিত না, হানাহানি মারামারিও না। তোমরা যখন দুঃথকেই স্বীকার কর তখন আনন্দকে বাদ দাও, কিন্তু আনন্দকে স্বীকার করিলে দুঃথকে বাদ দেওয়া হয় না । অতএব, তোমরা যখন বল, হানাহানি করিতে করিতে যাহা টিকিল তাহাই স্থই, সেটা একটা অবচ্ছিন্ন কথা, ইংরেজিতে ধাকে বলে অ্যাব স্টাক্সন— আর আনন্দ হইতেই সমস্ত হইতেছে ও টিকিতেছে, এইটেই হইল পুরা সত্য। আচ্ছা, তোমার কথাই মানিয়া লইলাম, কিন্তু এটা তো একটা তত্ত্বজ্ঞানের কথা । ংসারের কাজে ইহার দাম কী । _ সে জবাবদিহি কবির নয়, এমন-কি, বৈজ্ঞানিকেরও নয়। কিন্তু, যেরকম দিনকাল পড়িয়াছে কবিদের মতো সংসারের নেহাভ অনাবশুক লোকের ও হিসাবনিকাশের দায় এড়াইয়া চলিবার জো নাই। আমাদের দেশের অলংকারশাস্ত্রে রসকে চিরদিন অহেতুক অনির্বচনীয় বলিয়া আসিয়াছে, স্বতরাং যারা রসের কারবারী তাহাদিগকে এ দেশে প্রয়োজনের হাটের মাম্বল দিতে হয় নাই। কিন্তু, শুনিতে পাই, পশ্চিমের কোনো কোনো নামজাদা পাক লোক রসকে কাব্যের চরম পদার্থ বলিয়া মানিতে রাজি নন, রসের তলায় কোনো তলানি পড়ে কি না সেইটে দেখিয়া নিক্তিতে মাপিয়া তার কাব্যের দাম ঠিক করিতে চান । সুতরাং, কোনো কথাতেই অনির্বচনীয়তার দোহাই দিতে গেলে আজকাল আমাদের দেশেও লোকে সেকেলে এবং ওরিয়েণ্টাল বলিয়া নিন্দা করিতে পারে। সে নিন্দ অসহ নয়, তবু কাজের লোকদিগকে যতটুকু খুশি করিতে পারা যায় চেষ্টা করা ভালো। যদিচ আমি কবি মাত্র, তবুও এ সম্বন্ধে আমার বুদ্ধিতে বা আসে তা একটু গোড়ার দিক হইতে বলিতে চাই। জগতে সৎ চিৎ ও আনন্দের প্রকাশকে আমরা জ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে বিশ্লিষ্ট করিয়া দেখিতে পারি, কিন্তু তাছারা বিচ্ছিন্ন হইয়া নাই । কাষ্ঠবস্তু গাছ নয়, তার রস টানিবার