পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে ©ጫ>> এই-ধে স্থধোদয় সূর্বাস্ত, এই-যে আকাশ থেকে ধরণী পর্যন্ত সৌন্দর্ধের প্লাবন, এর মধ্যে তো কোনো জবরদস্ত, পাহারাওয়ালার তকমার চিহ্ন দেখতে পাই নে। ক্ষুধার মধ্যে একটা তাগিদ অাছে বটে, কিন্তু ওটা তো স্পষ্টই একটা 'না'এর ছাপ-মারা জিনিস । ‘ই’ আছে বটে ক্ষুধা-মেটাবার সেই ফলটির মধ্যে, রসনা যাকে সরল আগ্রহের সঙ্গে আত্মীয় বলে অভ্যর্থনা করে নেয়। তা হলে কোনটাকে সামনে দেখব আর কোনটাকে পিছনে ? ব্যাকরণটাকে না কাব্যটিকে ? পাকশালকে না ভোজের নিমন্ত্রণকে ? গৃহকর্তার উদ্দেগুটি কোনখানে প্রকাশ পায়— যেখানে, নিমন্ত্রণপত্র হাতে, ছাতা মাথায় হেঁটে এলেম না যেখানে আমার আসন পাতা হয়েছে ? স্বষ্টি আর সর্জন হল একই কথা। তিনি আপনাকে পরিপূর্ণভাবে বিসর্জন করেছেন, বিলিয়ে দিয়েছেন বলেই আমাদের প্রাণ জুড়িয়ে দিয়েছেন– তাই আমাদের হৃদয় বলে 'আঃ র্বাচলেম’ । শুক্ল সন্ধ্যার আকাশ জ্যোৎস্নায় উপছে পড়েছে— যখন কমিটি-মিটিংয়ে তর্ক বিতর্ক চলেছে তখন সেই আশ্চর্য খবরটি ভুলে থাকতে পারি, কিন্তু তারপর যখন দশটা রাত্রে ময়দানের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরি তখন ঘন চিন্তার ফাকের মধ্যে দিয়ে যে প্রকাশটি আমার মনের প্রাঙ্গণে এসে দাড়ায় তাকে দেখে আর কী বলব । বলি, আনন্দরূপমমুতং যদ্বিভাতি । সেই ধে ষণ্ড আনন্দরূপে যার প্রকাশ, সে কোন পদার্থ। সে কি শক্তি-পদাৰ্থ । রান্নাঘরে শক্তির প্রকাশ লুকিয়ে আছে । কিন্তু, ভোজের থালায় সে কি শক্তির প্রকাশ। মোগলসম্রাট প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন শক্তিকে । সেই বিপুল কাঠখড়ের প্রকাশকে কি প্রকাশ বলে। তার মূর্তি কোথায় । আওরঙজেবের নানা আধুনিক অবতাররাও রক্তরেখায় শক্তিকে প্রকাশ করবার জন্যে অতি বিপুল আয়োজন করেছেন । কিন্তু যিনি আবিঃ, যিনি প্রকাশস্বরূপ, আনন্দরূপে যিনি ব্যক্ত হচ্ছেন, তিনি সেই বক্তরেখার উপরে রবার বুলোতে এখনি শুরু করেছেন। আর, তার আলোকরশ্মির সন্মার্জনী তাদের আয়োজনের আবর্জনার উপর নিশ্চয় পড়তে আরম্ভ হয়েছে । কেননা, তার আনন্দ ষে প্রকাশ, আর আনন্দই যে তার প্রকাশ । এই প্রকাশটিকে আচ্ছন্ন করে তার শক্তিকে যদি তিনি সামনে রাখতেন তা হলে তাকে মানার মতো অপমান আমার পক্ষে আর কিছু হতে পারে না। যখন জাপানে যাচ্ছিলাম জাহাজ পড়ল দারুণ ঝড়ে। আমি ছিলেম ডেকে বসে। আমাকে ডুবিয়ে । মারার পক্ষে পবনের একটা ছোটো নিশ্বাসই যথেষ্ট ; কিন্তু কালো সাগরের বুকের উপরে পাগলা ঝড়ের যে-নৃত্য তার আয়োজন হচ্ছে আমার ভিতরে যে পাগল মন আছে তাকে মাতিয়ে তোলবার জন্মে। ঐ বিপুল সমারোহের দ্বারাই পাগলের সঙ্গে পাগলের