পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে و عواژها ডালিতে অমৃতমন্ত্র আছে। রূপের নৈবেদ্য ভরে ভরে ওঠে। স্থষ্টির প্রথম যুগে যে-সব ভূমিকম্পের মহিষ তার শিঙের আক্ষেপে ভূতল থেকে তপ্তপঙ্ক উৎক্ষিপ্ত করে দিচ্ছিল তারা আর ফিরে এল না ; যে-সব অগ্নিনাগিনী রসাতলের আবরণ ফুড়ে ক্ষণে ক্ষণে ফণা তুলে পৃথিবীর মেঘাচ্ছন্ন আকাশকে দংশন করতে উদ্যত হয়েছিল তারা কোন বাশি শুনে শাস্ত হয়ে গেল। কিন্তু, কচি কচি শু্যামল ঘাসের কোমল চুম্বন আকাশের নীল চোখকে বারে বারে জুড়িয়ে দিচ্ছে । তারা দিনে দিনে ফিরে ফিরে আসে । আমার ঘরের দরজার কাছে কয়েকটি কাটাগাছে বসন্তের সোহাগে ফুল ফুটে ওঠে। সে হল কণ্টিকারীর ফুল। তার বেগুনি রঙের কোমল বুকের মাঝখানে একটুখানি হলদে সোনা । আকাশে তাকিয়ে যে-স্বর্ষের কিরণকে সে ব্যান করে সেই ধ্যানটুকু তার বুকের মাঝখানটিতে যেন মধুর হয়ে রইল। এই ফুলের কি খ্যাতি আছে । আর, এ কি ঝরে ঝরে পড়ে না। কিন্তু, তাতে ক্ষতি হল কী । পৃথিবীর অতি বড়ো বড়ো পালোয়ানের চেয়ে সে নির্ভয় । অস্তরের আনন্দের মধ্যে সে রয়েছে, সে অমৃত । যখন বাইরে সে নেই তখনও রয়েছে। g মৃত্যুর হাতুড়ি পিটিয়েই মহাকালের দরবারে অমৃতের যাচাই হতে থাকে। খৃস্টের মৃত্যুসংবাদে এই কথাটাই না খৃষ্টীয় পুরাণে আছে। মৃত্যুর আঘাতেই তার অমৃতের শিখা উজ্জল হয়ে প্রকাশ হল না কি । কিন্তু, একটি কথা মনে রাখতে হবে— আমার কাছে বা তোমার কাছে ঘাড়-নাড়া পাওয়াকেই অমৃতের প্রকাশ বলে না । ৰেখানে সে রয়ে গেল সেখানে আমাদের দৃষ্ট না যেতেও পারে, আমাদের স্থতির পরিমাণে তার অমৃতত্বের পরিমাণ নয়। পূর্ণতার আবির্ভাবকে বুকে করে নিয়ে সে যদি এসে থাকে তা হলে মুহূর্তকালের মধ্যেই সে নিত্যকে দেখিয়ে দিয়েছে— আমার ধারণার উপরে তার অtশ্রয় নয় । হয়তো এ-সব কথা তত্ত্বজ্ঞানের কোঠায় পড়ে— আমার মতো আনাড়ির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে তত্ত্বজ্ঞানের আলোচনায় অবতীর্ণ হওয়া অসংগত । কিন্তু, আমি সেই শিক্ষকের মঞ্চে দাড়িয়ে কথা বলছি নে । নিজের জীবনের অভিজ্ঞতায় অন্তরে বাহিরে রসের যে-পরিচয় পেয়েছি আমি তারই কাছ থেকে ক্ষণে ক্ষণে আমার প্রশ্নের উত্তর ংগ্রহ করেছি। তাই আমি এখানে আহরণ করছি । আমাদের দেশে পরমপুরুষের একটি সংজ্ঞা আছে , তাকে বলা হয়েছে সচ্চিদানন্দ । এর মধ্যে আনন্দটিই হচ্ছে সবশেষের কথা, এর পরে আর-কোনো কথা নেই। সেই আনন্দের মধ্যেই যখন প্রকাশের তত্ব তখন এ প্রশ্নের কোনো অর্থই নেই যে, আর্টের দ্বারা আমাদের কোনো हिडनांथन झग्न किनां । ృళిee