পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীক্স-রচনাবলী والسكانها উজাড় ক’রে ঢেলে দিয়েছে ; বলতে পার, সমস্তই বাজে খরচ হল। সে কথা মানি ; স্বাক্টর বাজে খরচের বিভাগেই অসীমের খাল-তহবিল। ঐখানেই ষত রঙের রঙ্গিম, রূপের ভঙ্গি। ধারা মুনফার হিসাব রাখে তারা বলে, এটা লোকসান ; যারা সন্ন্যাসী তারা বলে, এটা অসংযম। বিশ্বকর্ম তার হাপর হাতুড়ি নিয়ে ব্যস্ত, এর দিকে তাকান না। বিশ্বকবি এই বাজে-খরচের বিভাগে তার থলি ঝুলি কেবলই উজাড় ক’রে দিচ্ছেন, অথচ রসের ব্যাপার আজও দেউলে হল না। শরীরের পিপাসা ছাড়া আর-এক পিপাসা ও মানুষের আছে। সংগীত চিত্র সাহিত্য মানুষের হৃদয়ের সম্বন্ধে সেই পিপাসাকেই জানান দিচ্ছে। ভোলবার জো কৗ । লে যে অস্তরবাসী একের বেদন । সে বলছে, “আমাকে বাহিরে প্রকাশ করে, রূপে রঙে স্বরে বাণীতে নৃত্যে। যে যেমন করে পার আমার অব্যক্ত ব্যথাটিকে ব্যক্ত করে দাও । এই ব্যাকুল প্রার্থনা যার হৃদয়ের গভীরে এসে পৌচেছে সে জাপিসের তাড়া, ব্যবসায়ের তাগিদ, হিতৈষীর কড়া হুকুম ঠেলে ফেলে দিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। কিছু না, একখানি তমুর হাতে নিয়ে ঘড় ছেড়ে বাইরে এসেছে। কী যে করবে কে জানে। স্বরের পর স্বর, রাগের পর রাগ যে তার অস্তরে বাজিয়ে তুলবে সে কে । সে তো বিজ্ঞানে যাকে প্রকৃতি বলে থাকে সেই প্রকৃতি নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচনের জম-খরচের খাতায় তার হিসাব মেলে না। প্রাকৃতিক নির্বাচন তার জঠরের মধ্যে হুকুম জাহির করছে। কিন্তু, মানুষ কি পশু যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাবুকের চোটে প্রকৃতির নির্দিষ্ট পথে চলবে। লীলাময় মাহুষ প্রকৃতিকে ডেকে বললে, “আমি রসে ভোর, আমি তোমার তাবেদার নই, চাবুক লাগাও তোমার পশুদের পিঠে । আমি তো ধনী হতে চাই নে, আমি তো পালোয়ান হতে চাই নে, আমার মধ্যে সেই বেদন আছে যা নিখিলের অন্তরে। আমি লীলাময়ের শরিক ৷” এই কথাটি জানতে হবে— মানুষ কেন ছবি অঁাকতে বসে, কেন গান করে। কখনো কখনো যখন আপন-মনে গান গেয়েছি তখন কীটুসের মতোই আমাকেও একটা গভীর প্রশ্ন ব্যাকুল করে তুলেছে, জিজ্ঞাসা করেছি— এ কি একটা মায়ামাত্র না এর কোনো অর্থ আছে। গানের স্বরে নিজেকে ভাসিয়ে দিলেম, আর সব জিনিসের মূল্য ৰেন এক মুহূর্তে বদলে গেল। যা অকিঞ্চিৎকর ছিল তাও অপরূপ হয়ে উঠল। কেন । কেননা, গানের স্বরের আলোয় এতক্ষণে সত্যকে দেখলুম। অস্তরে সর্বদা এই গানের দৃষ্টি থাকে না ব'লেই সত্য তুচ্ছ হয়ে সরে যায়। সত্যের ছোটো বড়ো সকল রূপই যে অনির্বচনীয় তা আমরা অনুভব করতে পারি নে। নিত্য-অভ্যালের স্থল পর্দার তার দীপ্তিকে আবৃত করে দেয়। স্বরের বাহন সেই পর্দার জাড়ালে সত্যলোকে আমাদের