পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\ОФ o ब्रशैठण-ब्रक्रमांबलौ আছে ; রূপের পাথার বলতে কী বোঝায়। জার, চোখ যদি ডুবেই যায় তবে রূপ দেখবে কী দিয়ে। আবার যৌবনের বন কোন দেশের বন। সেখানে পথ পায়ই বা কে আর হারায়ই বা কী উপায়ে । যারা তথ্য খোজেন তাদের এই কথাটা বুঝতে হবে যে, নির্দিষ্ট শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ ষে-তথ্যের দুর্গ ফেদে বসে আছে ছলে বলে কৌশলে তারই মধ্যে ছিদ্ৰ ক’রে নানা ফাকে, নানা আড়ালে সত্যকে দেখাতে হবে । দুর্গের পাথরের গাখুনি দেখাবার কাজ তো কবির নয়। ধারা তথ্যের দিকে দৃষ্টি রাখে তাদের হাতে কবিদের কী দুৰ্গতি ঘটে তার একটা नृडेखि निहे । f * আমি কবিতায় একটি বৌদ্ধকাহিনী লিখেছিলেম । বিষয়টি হচ্ছে এই— একদা প্রভাতে অনাথপিগুদ প্রভু বুদ্ধের নামে শ্রাবস্তীনগরের পথে ভিক্ষা মেগে চলেছেন। ধনীরা এনে দিলে ধন, শ্রেষ্ঠীরা এনে দিলে রত্ব, রাজঘরের বধূরা এনে দিলে হীরামুক্তার কষ্ঠ । সব পথে পড়ে রইল, ভিক্ষার ঝুলিতে উঠল না। বেলা যায়, নগরের বাহিরে পথের ধারে গাছের তলায় অনাথপিওদ দেখলেন এক ভিক্ষুক মেয়ে । তার আর কিছুই নেই, গায়ে একখানি জীর্ণ চীর। গাছের আড়ালে দাড়িয়ে এই মেয়ে সেই চৗরখানি প্রভুর নামে দান করলে। অনাথপিণ্ডদ বললেন, “অনেকে অনেক দিয়েছে, কিন্তু সব তো কেউ দেয় নি। এতক্ষণে আমার প্রভূর যোগ্য দান মিলল, আমি ধষ্ঠ হলুম।” একজন প্রবীণ বিজ্ঞ ধাৰ্মিক খ্যাতিমান লোক এই কবিতা প’ড়ে বড়ো লজ পেয়েছিলেন ; বলেছিলেন, “এ তে ছেলেমেয়েদের পড়বার যোগ্য কবিতা নয়।” এমনি আমার ভাগ্য, আমার খোড়া কলম খানার মধ্যে পড়তেই আছে। যদি-বা বৌদ্ধধর্মগ্রন্থ থেকে আমার গল্প আহরণ করে আনলুম, সেটাতেও সাহিত্যের আক্ৰ নষ্ট হল । নীতিনিপুণের চক্ষে তথ্যটাই বড়ো হয়ে উঠল, সত্যট। ঢাকা পড়ে গেল। হায় রে কবি, একে তো ভিখারিনীর কাছ থেকে দান নেওয়াটাই তথ্য হিসাবে অধৰ্ম, তার পরে নিতান্ত নিতেই যদি হয় তা হলে তার পাতার কুঁড়ের ভাঙা ঝাপটা কিম্বা একমাত্র মাটির হাড়িটা নিলে তো সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষণ হতে পারত। তথ্যের দিক থেকে এ কথা নতশিরে মানতেই হবে। এমন কি, আমার মতো কবি যদি তথ্যের জগতে ভিক্ষা করতে বেরত তবে কখনোই এমন গৰ্হিত কাজ করত না এবং তথ্যের জগতে পাগলগারদের বাইরে এমন ভিক্ষুক মেয়ে কোথাও মিলত না রাস্তার ধারে নিজের গায়ের একখানিমাত্র কাপড় ষে ভিক্ষা দিত ; কিন্তু, সত্যের জগতে স্বয়ং ভগবান বুদ্ধের প্রধান শিল্প এমন ভিক্ষা নিয়েছেন এবং ভিখারিনী এমন অদ্ভুত ভিক্ষা দিয়েছে এবং তার পরে