পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে €$3 জমছে বলেই যে সত্য তা নয় ; যে-সত্যের বাণী আমি ঘোষণা করি সে সত্য বিশ্বের ছন্দের ভিতর, চেক-বইয়ের অঙ্কের মধ্যেই নয়। সে-সভ্য পরম্পরের সঙ্গে পরস্পরের অমৃত সম্বন্ধে— গৃহ সজার উপকরণে নয়। সেই হচ্ছে সম্পূর্ণের সত্য, একের সত্য।’ আজ আমি সাহিত্যের কারুকারিতা সম্বন্ধে, তার ছন্দতত্ত্ব, তার রচনারীতি সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করব মনে স্থির করেছিলুম। এমন সময় বাজল বঁাশি । ইন্দ্রদেব স্বনারকে দিয়ে বলে পাঠালেন, ‘ব্যাখ্যা করেই যে সব কথা বলা যায়, আর তপস্তা করেই যে সব সাধনায় সিদ্ধিলাত হয় এমণ-সব লোক-প্রচলিত কথাকে তুমি কি কবি হয়েও বিশ্বাস কর । ব্যাখ্যা বদ্ধ করে তপস্ত ভঙ্গ ক’রে যে ফল পাওয়া যায় সেই হল অখণ্ড । সে তৈরি-করা জিনিস নয়, সে আপনি ফলে-ওঠা জিনিস ’ ধৰ্মশাস্ত্রে বলে, ইন্দ্রদেব কঠোর সাধনার ফল নষ্ট করবার জন্যেই মধুরকে পাঠিয়ে দেন। আমি দেবতার এই ঈর্ষা, এই প্রবঞ্চনা বিশ্বাস করি নে। সিদ্ধির পরিপূর্ণ অখণ্ড মূর্তিটি যে কিরকম তাই দেখিয়ে দেবার জন্তেই ইক্স মধুরকে পাঠিয়ে দেন। বলেন, "এ জিনিস লড়াই ক’রে তৈরি করে তোলবার জিনিস নয় ; এ ক্রমে ক্রমে থাকে থাকে গড়ে ওঠে না । সত্য স্বরে গানটিকে যদি সম্পূর্ণ ক’রে তুলতে চাও, তা হলে রাতদিন বাও-কষাকষি ক’রে তা হবে না। তন্থরার এই খাটি মধ্যম-পঞ্চম স্বরটিকে প্রত্যক্ষ গ্রহণ করে এবং অখণ্ড সম্পূর্ণতাটিকে অস্তরে লাভ করে, তা হলে সমগ্র গানের ঐক্যটি সত্য হবে।’ মেনকা উর্বশী এরা হল ঐ তন্থরার মধ্যম-পঞ্চম স্বয়— পরিপূর্ণতার অখণ্ড প্রতিম। সন্ন্যাসীকে মনে করিয়ে দেয় সিদ্ধির ফল জিনিসটা কী রকমের। স্বৰ্গকামী, তুমি স্বৰ্গ চাও? তাই তোমার তপস্তা ? কিন্তু, স্বর্গ তো পরিশ্রম ক’রে মিস্ত্রি দিয়ে তৈরি হয় নি। স্বৰ্গ যে স্থষ্টি । উর্বশীর ওষ্ঠপ্রান্তে ষে-হাসিটুকু লেগে আছে তার দিকে চেয়ে দেখে, স্বর্গের সহজ স্বরটুকুর স্বাদ পাবে। তুমি মুক্তিকামী মুক্তি চাও? একটু একটু ক’রে অস্তিত্বের জাল ছিড়ে ফেলাকে তো মুক্তি বলে না। মুক্তি তো বন্ধনহীন শূন্তত নয়। মুক্তি যে স্থষ্টি । মেনকার কবরীতে ষে-পারিজাত ফুলটি রয়েছে তার দিকে চেয়ে দেখে, মুক্তির পূর্ণরূপের মূর্তিটি দেখতে পাবে। বিধাতার রুদ্ধ আনন্দ ঐ পারিজাতের মধ্যে মুক্তি পেয়েছে— সেই অরূপ আনন্দ রূপের মধ্যে প্রকাশ লাভ করে সম্পূর্ণ হয়েছে। বুদ্ধদেব যখন বোধিক্রমের তলায় বসে কুচ্ছ সাধন করেছেন তখন তার পীড়িত চিত্ত বলেছে ‘হল না', 'পেলুম না’। তার পাওয়ার পূর্ণ রূপের প্রতিমা বাইরে দেখতে পেলেন কখন । যখন স্বজাত আন্ন এনে দিলে। সে কি কেবল দেহের অন্ন। তার মধ্যে ষে ভক্তি ছিল, প্রীতি ছিল, সেবা ছিল, সৌন্দর্ধ ছিল— সেই পায়স-অম্লের মধ্যেই অমৃত অতি সহজে প্রকাশ পেল । ইন্দ্রদেব কি সুজাতাকে পাঠান নি। সেই কুজাতায়