পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে H OO সত্য হল এক, আর সার্থক সত্য হল আর । সাধারণ সত্যে একেবারে বাছবিচার নেই, সার্থক সত্য আমাদের বাছাই-কর। মাহুষমাত্রেই সাধারণ সত্যের কোঠায়, কিন্তু যথার্থ মাস্থ্য লাখে না মিলল এক” । করুণার আবেগে বাল্মীকির মুখে যখন ছন্দ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল তখন সেই ছন্দকে ধন্ত করবার জন্তে নারদঋষির কাছ থেকে তিনি একজন যথার্থ মানুষের সন্ধান করেছিলেন । কেননা, ছন্দ অলংকার । যথার্থ সত্য যে বস্তুতই বিরল তা নয়, কিন্তু আমার মন যার মধ্যে অর্থ পায় না আমার পক্ষে তা অযথার্থ। কবির চিত্তে, রূপকারের চিত্তে, এই যথার্থ-বোধের সীমানা বৃহৎ ব’লে সত্যের সার্থকরূপ তিনি অনেক ব্যাপক ক’রে দেখাতে পারেন । যে-জিনিসের মধ্যে আমরা সম্পূর্ণকে দেখি সেই জিনিসই সার্থক। এক টুকরো কাকর আমার কাছে কিছুই নয়, একটি পদ্ম আমার কাছে স্বনিশ্চিত । অথচ কাকর পদে পদে ঠেলে ঠেলে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেয়, চোখে পড়লে তাকে ভোলবার জন্তে বৈদ্য ডাকতে হয়, ভাতে পড়লে দাতগুলো আঁতকে ওঠে– তবু তার সত্যের পূর্ণতা আমার কাছে নেই। পদ্ম কনুই দিয়ে বা কটাক্ষ দিয়ে ঠেলাঠেলির উপদ্রব একটুও করে না, তবু আমার সমস্ত মন তাকে আপনি এগিয়ে গিয়ে স্বীকার করে। যে-মন বরণীয়কে বরণ ক’রে নেয় তার শুচিবায়ুর পরিচয় দিই। সজ নে ফুলে সৌন্দর্ষের অভাব নেই। তৰু ঋতুরাজের রাজ্যাভিষেকের মন্ত্রপাঠে কবির সঙ্গ নে ফুলের নাম করেন না। ও ষে আমাদের খাদ্য, এই খর্বতায় কবির কাছেও সজনে আপন ফুলের যাথার্থ হারালো। বক ফুল, বেগুনের ফুল, কুমড়ো ফুল, এই সব রইল কাব্যের বাহিরদরজায় মাথা হেঁট করে দাড়িয়ে ; রান্নাঘর ওদের জাত মেরেছে । কবির কথা ছেড়ে দাও, কবির সীমস্তিনীও অলকে সজ নেমঞ্জরি পরতে দ্বিধা করেন, বক ফুলের মালায় তার বেণী জড়ালে ক্ষতি হত না, কিন্তু সে কথাটা মনেও আমল পায় না। কুন্দ আছে, টগর আছে, তাদেরও গন্ধ নেই, তবু অলংকার-মহলে তাদের দ্বার খোলা – কেননা, পেটের ক্ষুধা তাদের গায়ে হাত দেয় নি। বিম্ব যদি ঝোলে-ডালনায় লাগত তা হলে স্বন্দরীর অধরের সঙ্গে তার উপমা অগ্রাহ হত। তিলিফুল শর্ষে ফুলের রূপের ঐশ্বৰ্ষ প্রচুর, তবু হাটের রাস্তায় তাদের চরম গতি বলেই কবিকল্পনা তাদের নম্ৰ নমস্কারের প্রতিদান দিতে চায় না। শিরীষ ফুলের সঙ্গে গোলাপজাম ফুলের রূপে গুণেভেদ নেই, তবু কাব্যের পংক্তিতে ওর কৌলীন্ত গেল ; কেননা গোলাপজাম নামটা ভোজনলোভের দ্বারা লাঞ্ছিত। যে-কবির সাহস আছে মুন্দরের সমাজে তিনি জাতবিচার করেন না । তাই কালিদাসের কাব্যে কদম্ব বনের একশ্রেণীতে দাড়িয়ে স্তামজল্লুবনাপ্তও আষাঢ়ের অভ্যর্থনাভার নিল । কাব্যে সৌভাগ্যক্রমে কোনো শুভক্ষণে রসজ্ঞ দেবতাদের বিচারে মদনের তুণে আমের