পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 o 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী মুকুল স্থান পেয়েছে। বোধ করি, অমৃতে অনটন ঘটে না বলেই আমের প্রতি দেবতাদের আহারে লোভ নেই। স্বচ্ছ জলের তলে ক্লইমাছের সন্তরণলীলা আকাশে পাখি ওড়ার চেয়ে কম স্বন্দর নয়; কিন্তু, রুইমাছের নাম করৰামাত্র পাঠকের রসবোধ পাছে নিঃশেষে রসনার দিকেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে, এই ভয়ে ছন্দোবন্ধনে বেঁধে ওকে কাব্যের তীরে উত্তীর্ণ করা দুঃসাধ্য হল । সকল ব্যবহারের অতীত বলেই মকর বেঁচে গেছে— ওকে বাহনভূক্ত ক’রে নিতে দেবী জাহ্নবীর গৌরবস্থানি হল না, নির্বাচনের সময় রুই কাত লাটার নাম মুখে বেধে গেল । তার পিঠে স্থানাভাব বা পাখনায় জোর কম বলেই এমনটা ঘটেছে তা তো মানতে পারি নে। কেননা, লক্ষ্মী সরস্বতী যখন পদ্মকে আসন বলে বেছে নিলেন ভার দৌর্বল্য বা অপ্রশস্ততার কথা চিস্তা ও করেন নি । এইখানে চিত্রকলার স্ববিধা আছে। কচু গাছ আঁকতে রূপকারের তুলিতে সংকোচ নেই। কিন্তু, বনশোভাসজ্জায় কাব্যে কচু গাছের নাম করা মুশকিল। আমি নিজে জাত-মানা কবির দলে নই, তবু বাশবনের কথা পাড়তে গেলে অনেক সময় বেণুবন ব'লে সামলে নিতে হয় । শব্দের সঙ্গে নিত্যব্যবহারগত নানা ভাব জড়িয়ে থাকে । তাই কাব্যে কুৰ্বfচ ফুলের নাম করবার বেলা কিছু ইতস্তত করেছি, কিন্তু কুরূচি ফুল অঁাকতে চিত্রকরের তুলির মানহানি হয় না । এইখানে এ কথাটা বলা দরকার, য়ুরোপীয় কবিদের মনে শব্দ সম্বন্ধে শুচিতার সংস্কার এত প্রবল নয় । নামের চেয়ে বস্তুটা তাদের কাছে অনেক বেশি, তাই কাব্যে নামব্যবহার সম্বন্ধে তাদের লেখনীতে আমাদের চেয়ে বাধা কম । যা হোক এটা দেখা গেছে যে, যে-জিনিসটাকে কাজে খাটাই তাকে যথার্থ ক’রে দেখি নে। প্রয়োজনের ছায়াতে সে রাহুগ্রস্ত হয় । রান্নাঘরে ভাড়ার ঘরে গৃহস্থের নিত্য প্রয়োজন, কিন্তু বিশ্বজনের কাছে গৃহস্থ ঐ দুটে ঘর গোপন ক’রে রাখে। বৈঠকখানা না হলেও চলে, তবু সেই ঘরেই যত সাজসজ্জা, যত মালমসলা ; গৃহকত সেই ঘরে ছবি টাঙিয়ে, কাপেট পেতে, তার উপরে নিজের সাধ্যমতো সর্বকালের ছাপ মেরে দিতে চায়। সেই ঘরটিকে সে বিশেষভাবে বাছাই করেছে ; তার দ্বারাই সে সকলের কাছে পরিচিত হতে চায় আপন ব্যক্তিগত মহিমায় । সে যে খায় বা খাদ্যসঞ্চয় করে, এটাতে তার ব্যক্তিস্বরূপের সার্থকতা নেই। তার একটি বিশিষ্টভার গৌরব আছে, এই কথাটি বৈঠকখানা দিয়েই জানাতে পারে। তাই বৈঠকখানা অলংকৃত। জীবধর্মে মানুষের সঙ্গে পশুর প্রভেদ নেই। আত্মরক্ষা ও বংশরক্ষার প্রবৃত্তি তাদের উভয়ের প্রকৃতিতেই প্রবল। এই প্রবৃত্তিতে মচুন্যত্বের সার্থকতা মানুষ উপলব্ধি করে না । তাই ভোজনের ইচ্ছা ও স্বখ যতই প্রবল হোক ব্যাপক হোক, সাহিতে্যু