পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে 9め● সমান দামের হয়ে ওঠে। কেননা, অসীমের মধ্যে নিঃসন্দেহই তাদের সকলেরই এক অবস্থা– খণ্ড দেশকালপাত্রের মধ্যেই তাদের মূল্যভেদ । আম এবং মাকাল অসীমের মধ্যে একই, কিন্তু আমরা খেতে গেলেই দেখি তাদের মধ্যে অনেক প্রভেদ। এইজন্তে অতি বড়ো তত্ত্বজ্ঞানী অধ্যাপকদেরও যখন ভোজে নিমন্ত্রণ করি তখন তাদের পাতে আমের অকুলোন হলে মাকাল দিতে পারি নে। তত্ত্বজ্ঞানের দোহাই পেড়ে মাকাল যদি দিতে পারতুম এবং দিয়ে যদি বাহাৰা পাওয়া যেত, তাহলে সস্তায় ব্রাহ্মণভোজন করানো যেত, কিন্তু পুণ্য খতিয়ে দেখবার বেলায় চিত্রগুপ্ত নিশ্চয় পাতঞ্জলদর্শনের মতে হিসাব করতেন না । পুণ্যলাভ করতে শক্তির দরকার। সাহিত্যেও একটা পুণ্যের খাত খোলা আছে । ভালোরকম বিদ্যাশিক্ষার জন্তে মানুষকে নিয়ত যে-প্রয়াস করতে হয় সেটাতে মস্তিষ্কের ও চরিত্রের শক্তি চাই । সমাজে এই বিস্তাশিক্ষার বিশেষ একটা আদর আছে ব'লেই সাধারণত এত ছাত্র এতটা শক্তি জাগিয়ে রাখে । সেই সমাজই যদি কোনো কারণে কোনো একদিন ব’লে বলে বিস্তাশিক্ষা ত্যাগ করাটাই আদরণীয়, তা হলে অধিকাংশ ছাত্র অতি সহজেই সাহস প্রকাশ করবার অহংকার করতে পারে। এই রকম সস্তা বীরত্ব করবার উপলক্ষ্য সাধারণ লোককে দিলে তাদের কর্তব্যবুদ্ধিকে দুর্বল করাই হয় । বীর্ষসাধ্য সাধনা বহুকাল বহু লোকেই অবলম্বন করেছে ব’লে তাকে সামান্ত ও সেকেলে ব’লে উপেক্ষা করবার স্পধর্ণ একবার প্রশ্রয় পেলে অতি সহজেই তা সংক্রামিত হতে পারে – বিশেষভাবে, যারা শক্তিহীন তাদেরই মধ্যে। সাহিত্যে এইরকম কৃত্রিম দুঃসাহসের হাওয়া যদি ওঠে তা হলে বিস্তর অপটু লেখকের লেখনী মুখর হয়ে উঠবে, এই আমাদের আশঙ্কা। আমি দেখেছি কেউ কেউ বলছেন, এই-সব তরুণ লেখকের মধ্যে নৈতিক চিত্তবিকার ঘটেছে ব’লেই এইরকম সাহিত্যের স্থষ্টি হঠাৎ এমন দ্রুতবেগে প্রবল হয়ে উঠেছে । আমি নিজে তা বিশ্বাস করি না। এরা অনেকেই সাহিত্যে সহজিয়া সাধন গ্রহণ করেছেন, তার প্রধান কারণ এটাই সহজ । অথচ দুঃসাহসিক ব’লে এতে বাছবাও পাওয়া যায়, তরুণের পক্ষে সেটা কম প্রলোভনের কথা নয়। তারা বলতে চায় ‘আমরা কিছু মানি নে— এটা তরুণের ধর্ম। কেননা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই না মানতে শক্তির দরকার করে ; সেই শক্তির অহংকার তরুণের পক্ষে স্বাভাবিক । এই অহংকারের আবেগে তারা ভুল করে ৪ থাকে ; সেই ভুলের বিপদ সত্বেও তরুণের এই স্পধর্ণকে আমি শ্রদ্ধাই করি । কিন্তু, যেখানে না মানাই হচ্ছে সহজ পন্থা, সেখানে সেই অশক্তের সন্তা তহংকার তরুণের পক্ষেই সব-চেয়ে অযোগ্য। ভাষাকে মানি নে যদি বলতে পারি