পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে 8>ዓ বিধাতা শাপ দিয়ে রেখেছেন, সে কোনোদিন প্রাণবান হয়ে উঠবে না। বাংলাদেশেই এমন মন্তব্য শুনতে হয়েছে যে, দাণ্ডয়ায়ের পাচালি শ্রেষ্ঠ, যেহেতু তা বিশুদ্ধ স্বাদেশিক । এটা অন্ধ অভিমানের কথা। এই অভিমানে একদিন শ্ৰীমতী বলেছিলেন, ‘কালে মেঘ আর হেরব না গো দূতী ৷' অবস্থাৰৈগুণ্যে এরকম মনের ভাব ঘটে সে কথা স্বীকার করা যাক— ওটা হল খণ্ডিত নারীর মুখের কথা, মনের কথা নয়। কিন্তু, যখন তত্ত্বজ্ঞানী এসে বলেন, সাত্ত্বিকতা হল ভারতীয়ত্ব, রাজসিকতা হল যুরোপীয়ত্ব— এই বলে সাহিত্যে খানাতল্লাশি করতে থাকেন, লাইন চুনে চুনে রাজসিকতার প্রমাণ DDD DDDD DDDBD BBB BDDB DDBD DDHG DD DBBS BB DBB BBBS কাউকে জাতে ঠেলেন, তখন একেবারে হতাশ হতে হয় । এক সময়ে ভারতীয় প্রভাব ৰখন প্রাণপূর্ণ ছিল তখন মধ্য এবং পূর্ব এশিয়া তার নিকট-সংস্পর্শে এসে দেখতে দেখতে প্রভূত শিল্পসম্পদে আশ্চর্ষস্কপে চরিতার্থ হয়েছিল। তাতে এশিয়ায় এনেছিল নবজাগরণ । এজন্ত ভারতের বহির্বতী এসিয়ার কোনো ংশ ৰেন কিছুমাত্র লজ্জিত না হয় । কারণ, যে-কোনো দানের মধ্যে শাশ্বত সত্য আছে তাকে যে-কোনো লোক যদি যথার্থভাবে আপন ক’রে স্বীকার করতে পারে তবে সে দান সত্যই তার আপনার হয়। অন্থকরণই চুরি, স্বীকরণ চুরি নয়। মানুষের সমস্ত বড়ো বড়ো সভ্যতা এই স্বীকরণশক্তির প্রভাবেই পূর্ণ মাহাত্ম্য লাভ করেছে। বর্তমান যুগে যুরোপ সর্ববিধ বিস্তায় ও সর্ববিধ কলায় মহীয়ান । চারি দিকে তার প্রভাব নান। আকারে বিকীর্ণ। সেই প্রভাবের প্রেরণায় যুরোপের বহির্ভাগেও দেশে দেশে চিত্তজাগরণ দেখা দিয়েছে। এই জাগরণকে নিন্দ করা অবিমিশ্র মুঢ়তা। যুরোপ যে-কোনো সত্যকে প্রকাশ করেছে তাতে সকল মানুষেরই অধিকার। কিন্তু, সেই অধিকারকে আত্মশক্তির দ্বারাই প্রমাণ করতে হয়— তাকে স্বকীয় ক’রে নিজের প্রাণের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া চাই । আমাদের স্বদেশাচুভূতি, আমাদের সাহিত্য, যুরোপের প্রভাবে উজ্জীবিত, বাংলাদেশের পক্ষে এটা গৌরবের কথা। শরৎ চাটুজের গল্প বেতালপঞ্চবিংশতি, হাতেম-তাই গোলেবকাওয়ালী অথবা কাদম্বরী-ৰাসবদত্তার মতো ষে হয় নি, হয়েছে যুরোপীয় কথাসাহিত্যের ছাদে, তাতে ক’রে অবাঙালিত্ব বা রজোগুণ প্রমাণ হয় না ; তাতে প্রমাণ হয় প্রতিভার প্রাণবত্তা । বাতাসে সত্যের ষেপ্রভাব ভেসে বেড়ায় তা দূরের থেকেই আস্থক বা নিকটের থেকে, তাকে সর্বাগ্রে অনুভব করে এবং স্বীকার করে প্রতিভাসম্পন্ন চিত্ত ; যার নিম্প্রতিভ তারাই সেটাকে ঠেকাতে চায়, এবং যেহেতু তার দলে ভারী এবং তাদের অসাড়তা ঘুচত্তে অনেক দেরি হয় এই কারণেই প্রতিভার ভাগ্যে দীর্ঘকাল দুঃখভোগ থাকে । তাই ৰলি,