পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে । 88 € ৰতনভরে । শেষে স্বখের শয়নে প্রাস্ত পরান আলসরলে আবেশবশে । পরশ করিলে জাগে না সে আর, কুস্কমের হার লাগে গুরুভার, ঘুমে জাগরণে মিশি একাকার নিশিদিবসে ; বেদনাবিহীন অসাড় বিরাগ মরমে পশে আবেশবশে । তাই ভেবেছি আজিকে খেলিতে হইবে নৃতন খেলা রাত্ৰিবেলা । মরণদোলায় ধরি রশিগাছি বসিব দুজনে বড়ো কাছাকাছি, বঞ্জা আসিয়া আট হাসিয়া মারিবে ঠেলা, প্রাণেতে আমাতে খেলিব দুজনে ঝুলন-খেলা নিশীথ বেলা । অামাদের শাস্ত্র বলেন— তং বেন্তং পুরুষং বেদ যথা মা বো মৃত্যু: পরিব্যথাঃ । সেই বেদনীয় পুরুষকে জানো যাতে মৃত্যু তোমাকে ব্যথা না দেয়। বেদনা অর্থাৎ হৃদয়বোধ দিয়েই ধাকে জানা যায় জানো সেই পুরুষকে অর্থাৎ পাসোঙ্গালিটিকে। আমার ব্যক্তিপুরুষ যখন অব্যবহিত অনুভূতি দিয়ে জানে অসীম পুরুষকে, জানে হৃদ মনীষা মনসা, তখন তার মধ্যে নিঃসংশয়রূপে জানে আপনাকেও । তখন কী হয়। মৃত্যু অর্থাৎ শূন্ততার ব্যথা চলে যায়, কেননা বেদনীয় পুরুষের বোধ পূর্ণতার বোধ, শূন্ততার বোধের বিরুদ্ধ। এই আধ্যাত্মিক সাধনার কথাটাকেই সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামিয়ে আনা চলে। জীবনে শুগুতাবোধ আমাদের ব্যথা দেয়, সত্তাবোধের মানতায় সংসারে এমন-কিছু অভাব ঘটে যাতে আমাদের অনুভূতির সাড়া জাগে না, যেখানে আমাদের ব্যক্তিবোধকে জাগ্রত রাখবার মতো এমন কোনো বাণী নেই যা স্পষ্ট ভাষায় বলছে ‘আমি আছি । বিরহের শূন্ততায় যখন শকুন্তলার মন অবসাদগ্ৰস্ত তখন তার দ্বারে উঠেছিল ধ্বনি, ‘জয়মহং ভোঃ। এই-ষে আমি আছি। সে বাণী পৌছল না তার কানে, তাই তার অন্তরাত্মা জবাব দিল না, এই ষে আমিও জাছি।’ দুঃখের কারণ ঘটল সেইখানে। সংসারে