পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


888 রবীন্দ্র-রচনাবলী ‘আমি আছি’ এই বাণী যদি স্পষ্ট থাকে তা হলেই আমার আপনার মধ্য থেকে তার নিশ্চিত উত্তর মেলে, 'আমি আছি " "আমি আছি” এই বাণী প্রবল স্বরে ধ্বনিত হয় কিসে। এমন সত্যে যাতে রস আছে পূর্ণ। আপন অন্তরে ব্যক্তিপুরুষকে নিবিড় করে অনুভব করি যখন আপন বাইরে গোচর হয়েছে রসাত্মক রূপ। তাই বাউল গেয়ে বেড়িয়েছে— আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে । কেননা, আমার মনের মানুষকেই একান্ত করে পাবার জন্তে পরম মানুষকে চাই, চাই তং বেদ্যং পুরুষং ; তা হলে শূন্তত ব্যথা দেয় না । আমাদের পেট ভরাবার জন্তে, জীবনযাত্রার অভাব মোচন করবার জন্তে, অাছে নানা বিদ্যা, নানা চেষ্টা ; মানুষের শূন্ত ভরাবার জন্তে, তার মনের মানুষকে নানা ভাবে নানা রসে জাগিয়ে রাখবার জন্তে, আছে তার সাহিত্য, তার শিল্প। মামুষের ইতিহাসে এর স্থান কী বৃহৎ, এর পরিমাণ কী প্রভূত । সভ্যতার কোনো প্রলয়ভুমিকম্পে যদি এর বিলোপ সম্ভব হয় তবে মানুষের ইতিহাসে কী প্রকাও শুষ্ঠত কালে মরুভূমির মতো ব্যাপ্ত হয়ে যাবে। তার ‘কৃষ্টি’র ক্ষেত্র অাছে তার চাষে বাসে আপিসে কারখানায় ; তার সংস্কৃতির ক্ষেত্ৰ সাহিত্যে, এখানে তার আপনারই সংস্কৃতি, সে তাতে আপনাকেই সম্যকরূপে করে তুলছে, সে আপনিই হয়ে উঠছে। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ তাই বলেছেন, আত্মসংস্কৃতির্বাব শিল্পানি । ক্লাসম্বরের দেয়ালে মাধব আর-এক ছেলের নামে বড়ো বড়ো অক্ষরে লিখে রেখেছে ‘ब्रांथांलफ़ेो वैनिद्र' । भूवहे ब्रांशं श्रञ्चरह ।। ७हे ब्रां८अंद्र बिबcबग्न छूणनाञ्च बछ-नक्ण ছেলেই তার কাছে অপেক্ষাকৃত অগোচর। অস্তিত্ব হিসাবে রাখাল যে কত বড়ো হয়েছে তা অক্ষরের ছাদ দেখলেই বোঝা যাবে। মাধব আপন স্বল্প শক্তি-অঙ্কুসারে আপন রাগের অনুভূতিকে আপনার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সেইটে দিয়ে দেয়ালের উপর এমন একটা কালো অক্ষরের রূপ স্বষ্টি করেছে বা খুৰ বড়ো করে জানাচ্ছে, মাধব রাগ করেছে ; যা মাধব চাচ্ছে সমস্ত জগতের কাছে গোচর করতে। ঐটেকে একটা গীতিকবিতার বামন অবতার বলা যেতে পারে। মাধবের অন্তরে যে অপরিণত পঙ্গু কৰি আছে, রাখালের সঙ্গে বানরের উপমার বেশি তার কলমে আর এগোল না। বেদব্যাস ঐ কথাটাই লিখেছিলেন মহাভারতের পাতায় শকুনির নামে । তার ভাবা স্বতন্ত্র, তা ছাড়া তার কয়লার অক্ষর মুছবে না যতই চুনকাম করা বাক । পুরাতত্ত্ববিদ নানা সাক্ষ্যের জোরে প্রমাণ করে দিতে পারেন, শকুনি নামে কোনো ব্যক্তি কোনো কালেই