পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


e রবীক্স-রচনাবলী و 8 এই স্বাক্টতে ষে-মানুষকে দেখি, প্রকৃতির হাতে আদি সে তৈরি হত তা হলে তার মধ্যে অনেক বাহুল্য থাকত ; সে বাস্তৰ যদি হত তৰু সত্য হত না, অর্থাৎ আমাদের হৃদয় তাকে নিঃসংশয় প্রামাণিক বলে মানত না । তার মধ্যে অনেক ফাক থাকত, অনেক-কিছু থাকত যা নিরর্থক, আগে-পিছের ওজন ঠিক থাকত না । তার ঐক্য আমাদের কাছে স্বম্পষ্ট হত না। শতদল পদ্মে ষে-ঐক্য দেখে আমরা তাকে মুহূর্তেই বলি স্বন্দর, তা সহজ— তার সংকীর্ণ বৈচিত্র্যের মধ্যে কোথাও পরম্পর দ্বন্ধ নেই, এমনকিছু নেই যা অৰখা ; আমাদের হৃদয় তাকে অধিকার করতে পারে অনায়ালে, কোথা ও বাধা পায় না । মামুষের সংসারে দ্বন্দ্ববহুল বৈচিত্র্য আমাদের উদভ্ৰান্ত করে দেয়। যদি তার কোনো একটি প্রকাশকে স্পষ্টরূপে হৃদয়গম্য করতে হয় তা হলে আর্টিস্টের স্বনিপুণ কল্পনা চাই। অর্থাৎ, বাস্তবে যা আছে বাইরে তাকে পরিণত করে তুলতে হবে মনের জিনিস ক’রে। আর্টিস্টের সামনে উপকরণ আছে বিস্তর— সেগুলির মধ্যে গ্রহণ বর্জন করতে হবে কল্পনার নির্দেশমতো। তার কোনোটাকে বাড়াতে হবে, কোনোটাকে কমাতে ; কোনোটাকে সামনে রাখতে হবে, কোনোটাকে পিছনে। বাস্তবে বা বাহুল্যের মধ্যে বিক্ষিপ্ত তাকে এমন ক’রে সংহত করতে হবে যাতে আমাদের মন তাকে সহজে গ্রহণ করে তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রকৃতির স্থষ্টির দূরত্ব থেকে মানুষের ভাষায় সেতু বেঁধে তাকে মর্মক্ষম নৈকট্য দিতে হবে ; সেই নৈকট্য ঘটায় বলেই সাহিত্যকে আমরা সাহিত্য বলি । মানুষ ষে-বিশ্বে জন্মেছে, তাকে ছুই দিক থেকে কেবলই আত্মসাৎ করবার চেষ্ট করছে, ব্যবহারের দিক থেকে আর ভাবের দিক থেকে । আগুন যেখানে প্রচ্ছন্ন সেখানে মাছৰ জালল ৰাগুন নিজের হাতে আকাশের আলো ৰেখানে অগোচর সেখানে সে বৈদ্যুতিক আলোকক প্রকাশ করলে নিজের কৌশলে ; প্রকৃতি আপনি ষে-ফলমূলফসল বরাদ্ধ করে দিয়েছে তার অনিশ্চয়তা ও অসচ্ছলতা সে দূর করেছে নিজের লাঙলের চাবে ; পর্বতে অরণ্যে গুহাগহরে সে বাস করতে পারত, করে নি—সে নিজের স্ববিধা ও রুচি অনুসারে আপন বাসা আপনি নির্মাণ করেছে। পৃথিবীকে সে জম্বাচিত পেয়েছিল। কিন্তু, সে পৃথিবী তার ইচ্ছার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিশ খায় নি; তাই আদিকাল থেকেই প্রাকৃতিক পৃথিবীকে মানব বুদ্ধিকৌশলে আপন ইচ্ছাস্থগত মানবিক পৃথিবী ক’রে তুলছে— সেজন্তে তার কত কলবল, কত নির্মাণনৈপুণ্য। এখানকার জলে স্থলে আকাশে পৃথিবীর সর্বত্র মানুষ জাপন ইচ্ছাকে প্রসারিত ক’রে দিচ্ছে। উপকরণ পাচ্ছে সেই পৃথিবীরই কাছ থেকে, শক্তি ধার করছে তারই গুপ্ত ভাওরে প্রবেশ করে। সেগুলিকে আপন পথে আপন মতে চালনা করে পৃথিবীর রূপাঙ্কর ঘটিয়ে