পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ግo রবীন্দ্র-রচনাবলী ক্ষুদ্র হয়ে রইল। আর যেখানে সে আপনাকে প্রকাশ করতে পারল সেখানেই তার মহত্ব পরিস্ফুট হল । 曹 এই পরিচয়ের সফলতা লাভ করতে হলে ভাষা সবল ও সতেজ হওয়া চাই । ভাষা যদি অস্বচ্ছ হয়, দরিদ্র হয়, জড়তাগ্রস্ত হয়, তা হলে মনোবিশ্বে মানুষের ষে-প্রকাশ তা অসম্পূর্ণ হয়। বাংলাভাষী এক সময়ে গেয়োরকমের ছিল । তার সহযোগে তত্ত্বকথা ও গভীর ভাব প্রকাশ করবার অনেক বাধা ছিল । তাই বাঙালিকে সেদিন সকলে গ্রাম্য বলে জেনেছিল । তাই যারা সংস্কৃত ভাষার চর্চা করেছিলেন এবং সংস্কৃভশাস্ত্রের মধ্য দিয়ে বিশ্বসত্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন তারা বঙ্গভাষায় একান্ত-আবদ্ধ চিত্তের সন্মান করতে পারেন নি। বাংলার পাচালিসাহিত্য ও পয়ারের কথা তাদের কাছে নগণ্য ছিল । অনাদরের ফল কী হয় । অনাদৃত মানুষ নিজেকে অনাদরণীয় বলে বিশ্বাস করে ; মনে করে, স্বভাবতই সে জ্যোতিহীন । কিন্তু, এ কথাটা তো গভীর ভাবে সত্য নয় ; আত্মপ্রকাশের অভাবেই তার আত্মবিশ্বতি । যখন সে আপনাকে প্রকাশ করবার উপযুক্ত উপলক্ষ্য পায় তখন সে আর আপনার কাছে আপনি প্রচ্ছন্ন থাকে না। উপযুক্ত আধারটি না পেলে প্রদীপ আপনার শিখা সম্বন্ধে আপনি অন্ধ থাকে। অতএব, যে-হেতু মামুষের আত্মপ্রকাশের প্রধান বাহন হচ্ছে তার ভাষা তাই তার সকলের চেয়ে বড়ো কাজ– ভাষার দৈন্ত দূত্র করে আপনার যথার্থ পরিচয় লাভ করা এবং সেই পূর্ণ পরিচয়টি বিশ্বের সমক্ষে উদঘাটিত করা । আমার মনে পড়ে, আমাদের বাল্যকালে বাংলাদেশে একদিন ভাবের তাপস বঙ্কিমচন্দ্র কোন এক উদবোধনমন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেন, তাতে হঠাৎ যেন বহু দিনের কৃষ্ণপক্ষ তার কালো পৃষ্ঠা উলটিয়ে দিয়ে শুক্লপক্ষরূপে আবিভূতি হল। তখন ৰে-সম্পদ আমাদের কাছে উদঘাটিত হয়েছিল শুধু তার জন্তেই যে আমাদের আনন্দ ছিল তা নয়। কিন্তু, হঠাৎ সম্মুখে দেখা গেল, একটি অপরিসীম আশার ক্ষেত্র বিস্তারিত। কী যে হবে, কত যে পাব, ভাৰীকাল যে কোন অভাবনীয়কে বহন করে আনবে, সেই ঔৎস্থক্যে মন ভরে উঠল। এই-যে মনে অনুভূতি জাগে যে, সৌভাগ্যের বুঝি কোথাও শেষ নেই, এই-ৰে হৃৎস্পন্দনের মধ্যে আগন্তুক অসীমের পদশৰ শুনতে পাওয়া বায়, এতেই স্বষ্টিকার্ধ অগ্রসর হয়। সকল বিভাগেই এই ব্যাপারটি ঘটে থাকে। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে একদিন বাঙালির এবং ভারতবাসীর আশা সংকীর্ণ সীমায় বদ্ধ ছিল। তাই কংগ্রেগ মনে করেছিল যে, যতটুকু ইংরাজ হাতে তুলে দেবে সেই প্রসাদটুকু লাভ করেই বড়ো হওয়া যাবে। কিন্তু, এই সীমাবদ্ধ আশা যেদিন ঘুচে গেল সেদিন মনে হল যে, আমার আপনার মধ্যে ষে