পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী هه8 . তার পাখার পরিধির পরিমাণ দেখে, কিন্তু ওড়ার মধ্যে সেই পাখার সম্পূর্ণ ও যথার্থ পরিচয় দেখে না। এইরকম দেশের লোকের অতি নিকট দৃষ্টির কাছে নিজের ৰে খর্বত তা আমি অনেককাল থেকে অনুভব করে এসেছি। দেশের লোকের সভায় এরই সংকোচ আমি এড়াতে পারি লে। অস্তন্ত্র জগদবরেণ্য লোকদের সামনে আমাকে কথা বলতে হয়েছে, কিছুমাত্র দ্বিধা আমার মনে কোনোদিন জালে নি ; নিশ্চয় জেনেছি, তারা আমাকে স্পষ্ট করে বুঝবেন, একটি নির্মল ও প্রশস্ত ভূমিকার মধ্যে আমার কথাগুলিৰে তারা ধ’রে দেখতে পারবেন। এ দেশে এমন-কি অল্পবয়স্ক ছাত্রদের সামনেও দাড়াতে আমার সংকোচ বোধ হয়— জানি যে, কত কী ঘরাও কারণে ও বরগড়া অসত্যের ভিতর দিয়ে আমার সম্বন্ধে তাদের বিচারের আদর্শ উদার হওয়া সম্ভবপর হয় না । এই জন্তেই যমরাজের নিন্দার প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছি ; কারণ, তার উপরে আমার মন্ত ভরসা। তিনি নৈকট্যের অন্তরাল ঘুচিয়ে দেবেন ; আমার মধ্যে যা-কিছু অবাস্তর নিরর্থক ক্ষণকালীন, আর আমার সম্বন্ধে যা কিছু মিথ্যা স্বষ্টি, সে সমস্তই তিনি এক অন্তিম নিশ্বাসে উড়িয়ে দেবেন। বাহিরের নৈকট্যকে সরিয়ে ফেলে অস্তরের নৈকট্যকে তিনি স্বগম করবেন । কবিরাজদের পরম স্বত্বা যমরাজ। বেদিন তিনি আমাকে তার দরবারে ডেকে নেবেন সেদিন তোমাদের এই রবীক্স-পরিষদ খুব জমে উঠবে। কিন্তু, এ কথা বলে বিশেষ কোনো সাত্বনা নেই। মান্থব মানুষের নগদ প্রীতি চায়। মৃত্যুর পরে স্মরণসভার সভাপতির গদগদ ভাষার করুণ রস যেখানে উচ্চুলিত, সেখানে তৃষার্তের পাত্র পৌছয় না। ষে জীবলোকে এসেছি এখানে নানা রসের উৎস আছে, সেই স্থধারলে মতলোকেই আমরা অমৃতের স্বাদ পাই ; বুঝতে পারি, এই মাটির পৃথিৰীতেও অমরাবতী আছে। মানুষের কাছে মানুষের প্রীতি তারই মধ্যে একটি প্রধান অমৃতরল—মরৰার পূর্বে এ যদি অঞ্জলি ভরে পান করতে পাই তা হলে মৃত্যু অপ্রমাণ DB DD S BBD BBD DD DBBS DDD DDDD DDD DDD S gDDD DD দেখেছিলেম, ব্ৰহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের মৃত্যুশয্যার পাশে জাৰি ৰসে আছি । তিনি বললেন, ‘রবি, তোমার হাতটা জামাকে জাও দেখি।” হাত বাড়িয়ে দিলেম, কিন্তু র্তার এই অনুরোধের ঠিক মানেটি বুঝতে পারলেম না। অৰশেষে তিনি আমার হাত ধরে বললেন, “আমি এই যে জীবলোক থেকে বিদায় নিচ্চি, তোমার হাতের স্পর্শে তারই শেষম্পর্শ নিয়ে যেতে চাই।’ সেই জীবলোকের স্পর্শের জন্তে মনে আকাঙ্ক থাকে। কেননা, চলে খেতে হবে। আমার কাছে সেই স্পর্শটি কোথায় স্পষ্ট, কোথায় নিবিড়। যেখান থেকে এই