পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


જbr রবীন্দ্র-রচনাবলী বল কী হে কবি, এর মধ্যে তত্ত্বকথা কিছুই নেই ? কিছু না । তবে তোমার ও-রচনাটা বলছে কী । i ও বলছে, আমি আছি। শিশু জন্মাবামাত্র চেচিয়ে ওঠে, সেই কান্নার মানে জানেন মহারাজ ? শিশু হঠাৎ শুনতে পায় জলস্থল-আকাশ তাকে চারদিক থেকে বলে উঠেছে—“আমি আছি।”—তারই উত্তরে ওই প্রাণটুকু সাড়া পেয়ে ব’লে ওঠে— “আমি আছি।” আমার রচনা সেই সদ্যোজাত শিশুর কান্না, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ডাকের উত্তরে প্রাণের সাড়া । তার বেশি আর কিছু না ? কিছু না। আমার রচনার মধ্যে প্রাণ বলে উঠেছে, মুখে দুঃখে, কাজে বিশ্রামে, জন্মে মৃত্যুতে, জয়ে পরাজয়ে, লোকে লোকাস্তরে জয়— এই আমি-আছির জয়, জয়— এই আনন্দময় আমি-আাছির জয় । ওহে কবি, তত্ত্ব না থাকলে আজকের দিনে তোমার এ জিনিস চলবে না । সে কথা সত্য মহারাজ। আজকের দিনের আধুনিকের উপার্জন করতে চায়, উপলব্ধি করতে চায় না। ওরা বুদ্ধিমান ! তা হলে শ্রোতা কাদের ডাকা যায়। আমার রাজবিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রদের ডাকব কি । ন। মহারাজ, তার কাব্য শুনেও তর্ক করে। নতুন-শিং-ওঠা হরিণশিশুর মতো ফুলের গাছকেও গুতো মেরে মেরে বেড়ায় । তবে ? ডাক দেবেন যাদের চুলে পাক ধরেছে। সে কী কথা কবি । ই। মহারাজ, সেই প্রৌঢ়দেরই যৌবনটি নিরাসক্ত যৌবন । তারা ভোগবতী পার হয়ে আনন্দলোকের ডাঙা দেখতে পেয়েছে। তারা আর ফল চায় না, ফলতে চায় । ওহে কবি, তবে তো এতদিন পরে ঠিক আমার কাব্য শোনবার বয়েস হয়েছে। বিজয়বর্মণকেও ডাকা যাক । ডাকুন। চীন-সম্রাটের দূতকে ? ডাকুন। আমার শ্বশুর এসেছেন শুনছি—