পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ফাঙ্কনী రిసె সর্দার। কোন বুড়ো রে! চন্দ্ৰহাস । সেই যে মান্ধাতার আমলের বুড়ো। কোন গুহার মধ্যে তলিয়ে থাকে, মরবার নাম করে না । সর্দার । তার খবর তোরা পেলি কোথা থেকে । যার সঙ্গে দেখা হয় সবাই তার কথা বলে। পুথিতে তার কথা লেখা আছে। সর্দার । তার চেহারাটা কী রকম । কেউ বলে, সে সাদা, মড়ার মাথার খুলির মতো ; কেউ বলে, সে কালো, মড়ার চোখের কোটরের মতো । কেন, তুমি কি তার খবর রাখ না সর্দার । সর্দার । অামি তাকে বিশ্বাস করি নে । বা, তুনি যে উলটাে কথা বললে। সেই বুড়োই তো সবচেয়ে বেশি করে আছে । বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পাজরের ভিতরে তার বাস । পণ্ডিতজি বলে, বিশ্বাস যদি কাউকে না করতে হয় সে কেবল আমাদের । আমরা আছি কি নেই তার কোনো ঠিকানাই নেই। চন্দ্ৰহাস । আমরা যে ভারি কাচা, আমরা যে একেবারে নতুন, ভবের রাজ্যে আমাদের পাকা দলিল কোথায় । সর্দার । সর্বনাশ করলে দেখছি । তোরা পণ্ডিতের কাছে আনাগোনা শুরু করেছিস নাকি । তাতে ক্ষতি কী সর্দার । সর্দার । পুথির বুলির দেশে ঢুকলে যে একেবারে ফ্যাকাশে হয়ে যাবি। কার্তিকমাসের সাদা কুয়াশার মতো। তোদের মনের মধ্যে একটুও রক্তের রং থাকবে না। আচ্ছ এক কাজ কর। তোর খেলার কথা ভাবছিলি ? হা সর্দার, ভাবনায় আমাদের চোখে ঘুম ছিল না। আমাদের ভাবনার চোটে পাড়ার লোক রাজদরবারে নালিশ করতে ছুটেছিল। সর্দার। একটা নতুন খেলা বলতে পারি। বলো, বলে, বলে । সর্দার । তোরা সবাই মিলে বুড়োটাকে ধরে নিয়ে আয়। নতুন বটে, কিন্তু এটা ঠিক খেলা কি না জানি নে । সর্দার । আমি বলছি এ তোরা পারবি নে ।