পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ S 6 (t ঘরে এসে জিজ্ঞাসা করলে, “জল এনে দেব খোখী ?” “না, বোস্।” মেঝের উপর হাটু উচু করে বসল আয় । নীরজার দরকার কথা কওয়া, তাই আয়াকে চাই । আয় ওর স্বগত উক্তির বাহন । নীরজা বললে, “আজ ভোরবেলায় দরজা খোলার শব্দ শুনলুম।” আয়৷ কিছু বললে না ; কিন্তু তার বিরক্ত মুখভাবের অর্থ এই যে, “কবে না শোনা যায় ।” নীরজা অনাবশ্বক প্রশ্ন করল, “সরলাকে নিয়ে বুঝি বাগানে গিয়েছিলেন ?” কথাটা নিশ্চিত জানা, তবু রোজই একই প্রশ্ন। একবার হাত উলটিয়ে মুখ বাকিয়ে আয়৷ চুপ করে বসে রইল । নীরজা বাইরের দিকে চেয়ে আপন মনে বলতে লাগল, “আমাকেও ভোরে জাগাতেন, আমিও যেতুম বাগানের কাজে, ঠিক ওই সময়েই। সে তো বেশিদিনের কথা নয় ।” এই আলোচনায় যোগ দেওয়া কেউ তার কাছে আশা করে না, তবু আয়া থাকতে পারলে না। বললে, “ওঁকে না নিলে বাগান বুঝি যেত শুকিয়ে ?” নীরজা আপন মনে বলে চলল, “নিয়ু মার্কেটে ভোরবেলাকার ফুলের চালান না পাঠিয়ে আমার একদিনও কাটত না । সেইরকম ফুলের চালান আজও গিয়েছিল, গাড়ির শব্দ শুনেছি। আজকাল চালান কে দেখে দেয় রোশনি ।” এই জানা কথার কোনো উত্তর করল ন! আয়া, ঠোট চেপে রইল বসে । নীরজ আয়াকে বললে, “আর যাই হোক, আমি যতদিন ছিলুম মালীরা ফাকি দিতে পারে নি ।” আয় উঠল গুমরিয়ে, বললে, “সেদিন নেই, এখন লুঠ চলছে দু হাতে।” “সত্যি নাকি ৷” “আমি কি মিথ্যা বলছি। কলকাতার নতুনবাজারে কাটা ফুলই বা পৌছয়। জামাইবাৰু বেরিয়ে গেলেই খিড়কির দরজায় মালীদের ফুলের বাজার বসে যায়।” “এরা কেউ দেখে না ?” “দেখবার গরজ এত কার ।” “জামাইবাবুকে বলিস নে কেন।” “আমি বলবার কে। মান বাচিয়ে চলতে হবে তো ? তুমি বল না কেন। তোমারই তো সব।” '