পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ 盖 Ꮌ © Ꮔ আমি বললুম, রোদের বেলায় গরম লাগবে গাছের । কান দেয় না আমার কথায় ।” 廳 “বাবুকে বলিস নে কেন।” “বাৰুকে বলেছিলেম। বাৰু ধমক দিয়ে বলে, চুপ করে থাক। বউদিদি, ছুটি দণও অামাকে, সহ্য হয় না আমার ।” "তাই দেখেছি বটে, ঝুড়ি করে রাবিশ বয়ে আনছিলি।” “বউদিদি, তুমি আমার চিরকালের মনিব । তোমারই চোখের সামনে আমার মাথা হেঁট করে দিলে । দেশের লোকের কাছে আমার জাত যাবে। আমি কি কুলিমজুর।” “আচ্ছা, এখন যা । তোদের দিদিমণি যখন তোকে ইটমুরকি বইতে বলবে আমার নাম করে বলিস আমি বারণ করেছি। দাড়িয়ে রইলি ষে ?” “দেশ থেকে চিঠি এসেছে বড়ো হালের গোরুটা মারা গেছে।” বলে মাথা চুলকতে লাগল । নীরজা বললে, “না, মারা যায় নি, দিব্যি বেঁচে আছে। নে দুটো টাকা, আর বেশি বকিস নে ৷” এই বলে টিপাইয়ের উপরকার পিতলের বাক্স থেকে টাকা বের করে দিলে । “আবার কী ।” “বউয়ের জন্যে একখানা পুরোনো কাপড় । জয়জয়কার হবে তোমার।” এই বলে পানের ছোপে কালো-বর্ণ মুখ প্রসারিত করে হাসলে। নীরজা বললে, “রোশনি, দে তো ওকে আলনার ওই কাপড়খানা।” রোশনি সবলে মাথা নেড়ে বললে, “সে কী কথা, ও যে তোমার ঢাকাই শাড়ি ।” “হোক ন৷ ঢাকাই শাড়ি । আমার কাছে আজ সব শাড়িই সমান। কবেই বা অণর পরব।” রোশনি দৃঢ়মুখ করে বললে, “না, সে হবে না। ওকে তোমার সেই লালপেড়ে কলের কাপড়ট দেব। দেখ হলা, খোখীকে যদি এমনি জালাতন করিস বাবুকে বলে তোকে দূর করে তাড়িয়ে দেব।" হল নীরজার পা ধরে কান্নার স্বরে বললে, “আমার কপাল ভেঙেছে বউদিদি ।” "কেন রে, কী হয়েছে তোর ।” “আয়াজিকে মাসি বলি আমি । আমার মা নেই, এতদিন জানতেম হতভাগ হলাকে আয়াজি ভালোবাসেন। আজ বউদিদি, তোমার যদি দয়া হল উনি কেন