পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮌ©br . রবীন্দ্র-রচনাবলী দেন বাগড়া। কারও দোষ নয় আমারই কপালের দোষ । নইলে তোমার হলাকে পরের হাতে দিয়ে তুমি আজ বিছানায় পড়ে।” “ভয় নেই রে, তোর মাসি তোকে ভালোই বাসে। তুই আসবার আগেই তোর গুণগান করছিল। রোশনি, দে ওকে ওই কাপড়টা, নইলে ও ধন্ন দিয়ে পড়ে থাকবে ।” অত্যন্ত বিরস মুখে আয় কাপড়টা এনে ফেলে দিলে ওর সামনে হল সেটা তুলে নিয়ে গড় হয়ে প্রণাম করলে। তার পরে উঠে দাড়িয়ে বললে, “এই গামছাট দিয়ে মুড়ে নিই বউদিদি। আমার ময়লা হাত, দাগ লাগবে।” সম্মতির অপেক্ষ না রেখেই আলনা থেকে তোয়ালেট নিয়েই কাপড় মুড়ে দ্রুতপদে হল। প্রস্থান করলে। নীরজ আয়াকে জিজ্ঞাসা করলে, “আচ্ছ। আয়া, তুই ঠিক জানিস বাৰু বেরিয়ে গেছেন ?” “নিজের চক্ষে দেখলুম। কী তাড়া। টুপিটা নিতে ভুলে গেলেন।” “আজ এই প্রথম হল। আমার সকালবেলাকার পাওনা ফুলে ফাকি পড়ল। দিনে দিনে এই ফাকি বাড়তে থাকবে। শেষকালে আমি গিয়ে পড়ব আমার সংসারের আঁস্তাকুড়ে, যেখানে নিবে-যাওয়া পোড়া কয়লার জায়গা।” সরলাকে আসতে দেখে আয় মুখ বাকিয়ে চলে গেল । সরলা ঢুকল ঘরে। তার হাতে একটি অরকিড। ফুলটি শুভ্র, পাপড়ির আগায় বেগনির রেখা। যেন ডানা-মেলা মস্ত প্রজাপতি । সরলা ছিপছিপে লম্বা, শামল রং, প্রথমেই লক্ষ্য হয় তার বড়ো বড়ো চোখ, উজ্জল এবং করুণ। মোটা খন্দরের শাড়ি, চুল অযত্নে বাধা, শ্লথবন্ধনে নেমে পড়েছে কাধের দিকে। অসজ্জিত দেহ যৌবনের সমাগমকে অনাদৃত করে রেখেছে। নীরজা তার মুখের দিকে তাকালে না, সরলা ধীরে ধীরে ফুলটি বিছানায় তার সামনে রেখে দিলে। নীরজা বিরক্তির ভাব গোপন না করেই বললে, “কে আনতে বলেছে।” “আদিতদা।” “নিজে এলেন না যে ?” “নিয়ু মার্কেটের দোকানে তাড়াতাড়ি যেতে হল চা খাওয়া সেরেই।” "এত তাড়া কিসের ।” “কাল রাত্রে আপিসের তালা ভেঙে টাকা-চুরির খবর এসেছে।” “টানাটানি করে কি পাচ মিনিটও সময় দিতে পারতেন না।”