পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ । Ꮌ © “কাল রাত্রে তোমার ব্যথা বেড়েছিল। ভোরবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিলে। দরজার কাছ পর্যন্ত এসে ফিরে গেলেন। আমাকে বলে গেলেন দুপুরের মধ্যে যদি নিজে না আসতে পারেন এই ফুলটি যেন দিই তোমাকে ৷” দিনের কাজ আরম্ভের পূর্বেই রোজ আদিত্য বিশেষ বাছাই-করা একটি করে ফুল স্ত্রীর বিছানায় রেখে যেত। নীরজ প্রতিদিন তারই অপেক্ষা করেছে। আজকের দিনের বিশেষ ফুলটি আদিত্য সরলার হাতে দিয়ে গেল। এ কথা তার মনে আসে নি যে, ফুল দেওয়ার প্রধান মূল্য নিজের হাতে দেওয়া । গঙ্গার জল হলেও নলের ভিতর থেকে তার সার্থকতা থাকে না । নীরজ ফুলটা অবজ্ঞার সঙ্গে ঠেলে দিয়ে বললে, “জান মার্কেটে এ ফুলের দাম কত ? পাঠিয়ে দাও সেখানে, মিছে নষ্ট করবার দরকার কী ” বলতে বলতে গলা ভার হয়ে এল | সরলা বুঝলে ব্যাপারখানা । বুঝলে জবাব দিতে গেলে আক্ষেপের বেগ বাড়বে বই কমবে না। চুপ করে রইল দাড়িয়ে । একটু পরে খামখা নীরজা প্রশ্ন করলে, “জান এ ফুলের নাম ?” বললেই হত, জানি নে, কিন্তু বোধ করি অভিমানে ঘা লাগল, বললে,“এমারিলিস।” নীরজা অন্যায় উষ্মার সঙ্গে ধমক দিলে, “ভারি তো জান তুমি ; ওর নাম গ্র্যাণ্ডিফ্লোরা ।” সরলা মৃদুস্বরে বললে, “তা হবে।” “তা হবে মানে কী । নিশ্চয়ই তাই । বলতে চাও, আমি জানি নে ?” সরল জানত নীরজা জেনেশুনেই ভুল নামটা দিয়ে প্রতিবাদ করলে। অন্যকে জালিয়ে নিজের জালা উপশম করবার জন্যে । নীরবে হার মেনে ধীরে ধীরে বেরিয়ে চলে যাচ্ছিল, নীরজা ফিরে ডাকল, “শুনে যাও। কী করছিলে সমস্ত সকাল, কোথায় ছিলে ।” “আরকিডের ঘরে ।” . নীরজা উত্তেজিত হয়ে বললে, “আরকিডের ঘরে তোমার ঘন ঘন যাবার এত কী দরকার ।” “পুরোনো অরকিড চিরে ভাগ করে নতুন অরকিড করবার জন্যে আদিতদ অামাকে বলে গিয়েছিলেন - নীরজা বলে উঠল ধমক দেওয়ার স্বরে, “আনাড়ির মতো সব নষ্ট করবে তুমি। আমি নিজের হাতে হল। মালীকে তৈরি করে শিখিয়েছি, তাকে হুকুম করলে সে কি পারত না ।” †