পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী برای ۵ “যাবে কী, ওষুধ বের করে দিক। হরলিকস মিন্ধ তৈরি করে আহক।” "আহ সমস্ত দিন ওকে মালীর কাজে খাটিয়ে মার তার উপরে আবার নার্সের কাজ কেন। একটু দয়া হয় না তোমার মনে ? আয়াকে ডাকো না।” “অায়া কি ঠিকমত পারবে এ-সব কাজ।” “ভারি তো কাজ, খুব পারবে। আরো ভালোই পারবে ।” “কিন্তু—” “কিন্তু আবার কিসের । অীয়া অভ্যায়৷ * “অত উত্তেজিত হোয়ে না। একটা বিপদ ঘটাবে দেখছি।” “আমি আয়াকে ডেকে দিচ্ছি” বলে সরলা চলে গেল। নীরজার কথার যে একটা প্রতিবাদ করবে, সেও তার মুখে এল না। আদিত্যও মনে মনে আশ্চর্য হল, ভাবলে সরলাকে কি সত্যিই অন্যায় খাটানো হচ্ছে । ওষুধপথ্য হয়ে গেলে আদিত্য আয়াকে বললে, সরলাদিদিকে ডেকে দাও । "কথায় কথায় কেবলই সরলাদিদি, বেচারাকে তুমি অস্থির করে তুলবে দেখছি।” “কাজের কথা আছে।” “থাক্‌ না এখন কাজের কথা ।” “বেশিক্ষণ লাগবে না।” “সরলা মেয়েমানুষ ওর সঙ্গে এত কাজের কথা কিসের, তার চেয়ে হল মালীকে ডাকো না ।” “তোমাকে বিয়ে করবার পর থেকে একটা কথা আবিষ্কার করেছি যে, মেয়েরাই কাজের, পুরুষের হাড়ে অকেজো । আমরা কাজ করি দায়ে পড়ে, তোমরা কাজ কর প্রাণের উৎসাহে । এই সম্বন্ধে একটা থীসিস লিখব মনে করেছি। আমার ডায়রি থেকে বিস্তর উদাহরণ পাওয়া যাবে।” to, “সেই মেয়েকেই আজ তার প্রাণের কাজ থেকে বঞ্চিত করেছে যে-বিধাতা, তাকে কী ব’লে নিন্দে করব। ভূমিকম্পে হুড়মুড় করে আমার কাজের চুড়া পড়েছে ভেঙে তাই তো পোড়ো বাড়িতে ভূতের বাসা হল ।” সরল এল। আদিত্য জিজ্ঞাসা করলে, “অরকিড-ঘরের কাজ হয়ে গেছে ?” “ই হয়ে গেছে।” “সবগুলো ?” “সবগুলোই ।” “আর গোলাপের কাটিং ?”