পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ צף צ “ছিলেম বই-কি । কিন্তু আমাকে করতে হত কলেজের পড়া, ওর মতে অত সময় দিতে পারি নি। ওকে মেসোমশায় নিজে পড়াতেন।” “সেই বাগান নিয়ে তোমার মেসোমশায়ের সর্বনাশ হয়ে গেল। এমনই ও-মেয়ের পয়। আমার তো তাই ভয় করে। অলক্ষুণে মেয়ে। দেখ না মাঠের মতে কপাল, ঘোড়ার মতন লাফিয়ে চলন ! মেয়েমানুষের পুরুষালী বুদ্ধিটা ভালো নয়। ওতে অকল্যাণ ঘটায় ।” “তোমার আজ কী হয়েছে বলে। তো নীরু । কী কথা বলছ । মেসোমশায় বাগান করতেই জানতেন, ব্যাবসা করতে জানতেন না । ফুলের চাষ করতে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় নিজের লোকসান করতেও তার সমকক্ষ কেউ ছিল না। সকলের কাছে তিনি নাম পেতেন, দাম পেতেন না । বাগান করবার জন্যে আমাকে যখন মূলধনের টাকা দিয়েছিলেন আমি কি জানতুম তখনই তার তহবিল ডুবোড়বে। আমার একমাত্র সাস্তনা এই যে, তার মরবার আগেই সমস্ত দিয়েছি শোধ করে।” সরল কমলালেবুর রস নিয়ে এল। নীরজ বললে, “ওইখানে রেখে যাও।” রেখে সরলা চলে গেল। পাত্রট পড়ে রইল, ও ছু লই না । “সরলাকে তুমি বিয়ে করলে না কেন।” “শোনো একবার কথা ! বিয়ের কথা কোনোদিন মনেও আসে নি।” “মনেও আসে নি । এই বুঝি তোমার কবিত্ব!” “জীবনে কবিত্বের বালাই প্রথম দেখা দিল যেদিন তোমাকে দেখলুম। তার আগে আমরা দুই বুনোয় মিলে দিন কাটিয়েছি বনের ছায়ায়। নিজেদের ছিলুম ভুলে। হাল আমলের সভ্যতায় যদি মাহুষ হতুম তা হলে কী হত বলা যায় না।” “কেন সভ্যতার অপরাধটা কী।” “এখনকার সভ্যতাটা দুঃশাসনের মতো হৃদয়ের বস্ত্রহরণ করতে চায়। অনুভব করবার পূর্বেই সেয়ানা করে তোলে চোখে আঙল দিয়ে। গন্ধের ইশারা ওর পক্ষে বেশি সূক্ষ্ম, খবর নেয় পাপড়ি ছিড়ে ।” “সরলাকে তো দেখতে মন নয় ।” “সরলাকে জানতুম সরলা বলেই। ও দেখতে ভালো কি মন্দ সে-তত্ত্বটা সম্পূর্ণ राँल्ल] छूिल ॥“ “আচ্ছ, সত্যি বলে, ওকে তুমি ভালোবাসতে না ?” “নিশ্চয় ভালোবাসতুম। আমি কি জড় পদার্থ যে, ওকে ভালোবাসব না। মেসোমশায়ের ছেলে রেঙ্গুনে ব্যারিস্টারি করে, তার জন্যে কোনো ভাবনা নেই। তার