পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


›ዓ8 রবীন্দ্র-রচনাবলী কোনোদিন শুনি নি। তবে আজ আমার এই দুর্ভাগ্যের দিনে কেন দুজনের তুলনা করতে এলে। আজ আমি ওর সঙ্গে পারব কেন। মাপে সমান হব কী নিয়ে ।” “নীরু, আজ তোমার কাছে এই যা-সব শুনছি তার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলুম না। মনে হচ্ছে এ যেন আমার নীরুর কথা নয়, এ যেন আর কেউ ।” “ন গো না, সেই নীরুই বটে। তার কথা এত দিনেও তুমি বুঝলে না। এই আমার সবচেয়ে শাস্তি । বিয়ের পর যেদিন আমি জেনেছিলেম তোমার বাগান তোমার প্রাণের মতে প্রিয়, সেদিন থেকে ওই বাগান আর আমার মধ্যে ভেদ রাখি নি একটুকুও। নইলে তোমার বাগানের সঙ্গে আমার ভীষণ ঝগড়া বাধত, ওকে সইতে পারতুম না। ও হত আমার সতিন । তুমি তো জান, আমার দিনরাতের সাধনা । জান কেমন করে ওকে মিলিয়ে নিয়েছি আমার মধ্যে । একেবারে এক হয়ে গেছি ওর সঙ্গে ।” “জানি বই-কি। আমার সব কিছুকে নিয়েই যে তুমি।” “ও-সব কথা রাখে। আজ দেখলুম ওই বাগানের মধ্যে অনায়াসে প্রবেশ করলে আর-একজন। কোথাও একটুও ব্যথা লাগল না। আমার দেহখানাকে চিরে ফেলবার কথা কি মনে করতেও পারতে, আর কারু প্রাণ তার মধ্যে চালিয়ে দেবার জন্যে । আমার ওই বাগান কি আমার দেহ নয়। আমি হলে কি এমন করতে পারতুম।” “কী করতে তুমি।” “বলব কী করতুম ? বাগান ছারখার হয়ে যেত হয়তে। ব্যাবসা হত দেউলে । একটার জায়গায় দশটা মালী রাখতুম কিন্তু আসতে দিতুম না আর কোনো মেয়েকে, বিশেষত এমন কাউকে যার মনে গুমর আছে– সে আমার চেয়েও বাগানের কাজ ভালো জানে। ওর এই অহংকার দিয়ে তুমি আমাকে অপমান করবে প্রতিদিন, যখন আমি আজ মরতে বসেছি, যখন উপায় নেই নিজের শক্তি প্রমাণ করবার ? এমনটা কেন হতে পারল, বলব ?” "বলো ।” “তুমি আমার চেয়ে ওকে ভালোবাস বলে। এতদিন সে কথা লুকিয়ে রেখেছিলে ।” pسه আদিত্য কিছুক্ষণ মাথার চুলের মধ্যে হাত গুজে বসে রইল। তার পরে বিহালকণ্ঠে বললে, “নীরু, দশ বৎসর তুমি আমাকে জেনেছ, স্বখে দুঃখে নানা অবস্থায় নানা কাজে,