পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ ›ዓ® তার পরেও তুমি যদি এমন কথা আজ বলতে পার তবে আমি কোনো জবাব করব না। চললুম। কাছে থাকলে তোমার শরীর খারাপ হবে। ফর্ণরির পাশে যে জাপানী ঘর আছে সেইখানে থাকব । যখন আমাকে দরকার হবে ডেকে পাঠিয়ে ।” (t দিঘির ওপারের পাড়িতে চালতা গাছের আড়ালে চাদ উঠছে, জলে পড়েছে ঘন কালো ছায়া। এ পারে বাসস্তী গাছে কচি পাতা শিশুর ঘুমভাঙা চোখের মতো রাঙা, তার কাচাসোনার বরন ফুল, ঘন গন্ধ ভারী হয়ে জমে উঠেছে, গন্ধের কুয়াশা যেন । জোনাকির দল ঝলমল করছে জারুল গাছের ডালে । শান-বাধানো ঘাটের বেদির উপর স্তব্ধ হয়ে বসে আছে সরলা । বাতাস নেই কোথাও, পাতায় নেই কাপন, জল যেন কালে ছায়ার ফ্রেমে বাধানো পালিশ-করা রুপোর আয়না । পিছনের দিক থেকে প্রশ্ন এল, “আসতে পারি কি।” সরল স্নিগ্ধ কণ্ঠে উত্তর দিলে, “এসো।” রমেন বসল ঘাটের সিড়ির উপর, পায়ের কাছে । সরলা ব্যস্ত হয়ে বললে, “কোথায় বসলে রমেনদাদা, উপরে এসো।” রমেন বললে, “জান দেবীদের বর্ণনা আরম্ভ পদপল্লব থেকে ? পাশে জায়গা থাকে তো পরে বসব। দাও তোমার হাতখানি, অভ্যর্থনা শুরু করি বিলিতি মতে ।” সরলার হাত নিয়ে চুম্বন করলে। বললে, “সম্রাজ্ঞীর অভিবাদন গ্রহণ করে।” তার পরে উঠে দাড়িয়ে অল্প একটুখানি আবির নিয়ে দিলে ওর কপালে মাখিয়ে । “এ আবার কী ।” "জান না আজ দোলপূর্ণিমা ? তোমাদের গাছে গাছে ডালে ডালে রঙের ছড়াছড়ি । বসন্তে মানুষের গায়ে তো রং লাগে না, লাগে তার মনে । সেই রংটাকে বাইরে প্রকাশ করতে হবে, নইলে, বনলক্ষ্মী, অশোকবনে তুমি নির্বাসিত হয়ে থাকবে ।” .." 龜 “তোমার সঙ্গে কথার খেলা করি এমন ওস্তাদি নেই আমার ।” "কথার দরকার কিসের। পুরুষ পাখিই গান করে, তোমরা মেয়ে পাখি চুপ করে শুনলেই, উত্তর দেওয়া হল । এইবার বসতে দাও পাশে ।” পাশে এসে বসল। অনেকক্ষণ চুপ করে রইল দুজনেই। হঠাৎ সরল প্রশ্ন করলে, "রমেনদা, জেলে যাওয়া যায় কী করে, পরামর্শ দাও আমাকে ৷”