পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


›ግbr রবীন্দ্র-রচনাবলী বয়সটা নিয়েই যেন ফিরলুম, সেই সম্বন্ধ নিয়ে। এমনি করেই চিরদিন চলে যেতে পারত। আর বলে কী হবে ।” i “কথাটা শেষ করে ফেলো ।” “হঠাৎ আমাকে ধাক্কা মেরে কেন জানিয়ে দিলে যে আমার বয়স হয়েছে। যেদিনকার আড়ালে একসঙ্গে কাজ করেছি সেদিনকার আবরণ উড়ে গেছে একমুহূর্তে। তুমি নিশ্চয় সব জান রমেনদা, আমার কিছুই ঢাকা থাকে না তোমার চোখে । আমার উপরে বউদির রাগ দেখে প্রথম প্রথম ভারি আশ্চর্য লেগেছিল, কিছুতেই বুঝতে পারি নি। এতদিন দৃষ্টি পড়ে নি নিজের উপর, বউদিদির বিরাগের আগুনের আভায় দেখতে পেলেম নিজেকে, ধরা পড়লুম নিজের কাছে। আমার কথা বুঝতে পারছ কি।” “তোমার ছেলেবেলাকার তলিয়ে-থাকা ভালোবাসা নাড়া খেয়ে ভেসে উঠছে উপরের তলায় ।” k “আমি কী করব বলে। নিজের কাছ থেকে নিজে পালাই কী করে।” বলতে বলতে রমেনের হাত চেপে ধরলে । { রমেন চুপ করে রইল। আবার সে বললে, "যতক্ষণ এখানে আছি ততক্ষণ বেড়ে চলেছে আমার অন্যায়।” “অন্যায় কার উপরে।” “বউদির উপরে।” “দেখো সরলা, আমি মানি নে ও-সব পুথির কথা। দাবির হিসেব বিচার করবে কোন সত্য দিয়ে। তোমাদের মিলন কতকালের ; তখন কোথায় ছিল বউদি।” “কী বলছ রমেনদা ! আপন ইচ্ছের দোহাই দিয়ে এ কী আবদারের কথা । আদিতদণর কথাও তো ভাবতে হবে ।” “হবে বই-কি। তুমি কি ভাবছ, যে-আঘাতে চমকিয়ে দিয়েছে তোমাকে, সেই আঘাতটাই তাকে লাগে নি।” “রমেন নাকি ৷”, পিছন থেকে শোনা গেল । “হঁ। দাদা।” রমেন উঠে পড়ল । “তোমার বউদি তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন, আয় এসে এইমাত্র জানিয়ে গেল।” r রমেন চলে গেল, সরলাও তখনি উঠে যাবার উপক্রম করলে । আদিত্য বললে, “যেয়ে না সরি, একটু বোসে।" আদিত্যের মুখ দেখে সরলার