পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ אף צ( বুক ফেটে যেতে চায়। ওই অবিশ্রাম কর্মরত আপনা-ভোলা মস্ত মানুষটা এতক্ষণ যেন কেবল পাক খেয়ে বেড়াচ্ছিল হালভাঙা ঢেউখাওয়া নৌকার মতো । আদিত্য বললে, “আমরা দুজনে এ সংসারে জীবন আরম্ভ করেছিলেম একেবারে এক হয়ে । এত সহজ আমাদের মিল যে এর মধ্যে কোনো ভেদ কোনো কারণে ঘটতে পারে সে কথ। মনে করাই অসম্ভব। তাই কি নয় সরি।” “অঙ্কুরে যা এক থাকে, বেড়ে উঠে তা ভাগ হয়ে যায় এ কথা না মেনে তো থাকবার জো নেই আদিতদা।” “সে-ভাগ তো বাইরে, কেবল চোখে দেখার ভাগ । অন্তরে তো প্রাণের মধ্যে ভাগ হয় না। আজ তোমাকে আমার কাছ থেকে সরিয়ে নেবার ধাক্কা এসেছে । আমাকে যে এত বেশি বাজবে এ আমি কোনোদিন ভাবতেই পারতুম না। সরি, তুমি কি জান কী ধাক্কাট এল হঠাৎ আমাদের পরে।” "জানি ভাই, তুমি জানবার আগে থাকতেই ৷” “সইতে পারবে সরি ?” “সইতেই হবে।” “মেয়েদের সহ করবার শক্তি কি আমাদের চেয়ে বেশি, তাই ভাবি ।” “তোমরা পুরুষমাহুষ দুঃখের সঙ্গে লড়াই কর, মেয়ের যুগে-যুগে-দুঃখ কেবল সহাই করে। চোখের জল আর ধৈর্য, এ ছাড়া আর তো কিছুই সম্বল নেই তাদের।” “তোমাকে আমার কাছ থেকে ছিড়ে নিয়ে যাবে এ আমি ঘটতে দেব না, দেব না। এ মন্যায়, এ নিষ্ঠুর অন্যায়।”— বলে মুঠো শক্ত করে আকাশে কোন অদৃষ্ঠা শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত হল । সরলা কোলের উপর আদিত্যের হাতখানা নিয়ে তার উপরে ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। বলে গেল যেন আপন মনে ধীরে ধীরে, “ন্যায় অন্যায়ের কথা নয় ভাই, সম্বন্ধের বন্ধন যখন ফাস হয়ে ওঠে তার ব্যথা বাজে নানা লোকের মধ্যে, টানাটানি পড়ে নানা দিক থেকে, কাকেই বা দোষ দেব।” دیسه كاك তুমি সহ করতে পারবে তা জানি। একদিনের কথা মনে পড়ছে। কী চুল ছিল তোমার, এখনও আছে। সে চুলের গর্ব ছিল তোমার মনে । সবাই সেই গর্বে প্রশ্রয় দিত। একদিন ঝগড়া হল তোমার সঙ্গে । দুপুরবেল বালিশের পরে চুল মেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলে, আমি কাচি হাতে অস্তুত আধহাতখানেক কেটে দিলাম। তখনই জেগে তুমি দাড়িয়ে উঠলে, তোমার ওই কালো চোখ আরও কালে হয়ে উঠল। শুধু বললে, ‘মনে করেছ আমাকে জব্দ করবে ? বলে আমার হাত