পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৯২ রবীন্দ্র-রচনাবলী “আচ্ছ, তা হলে আমিই কিছু বলতে চাই তুমি শোনো । বলে, কথা রাখবে।” “অরক্ষণীয়া না হলে কথা নিশ্চয় রাখব তুমি তা জান ।” “বুঝতে বাকি নেই আমি কাছে থাকলে একেবারেই চলবে না। এই সময়ে দিদির সেবা করতে পারলে খুশি হতুম, কিন্তু সে আমার ভাগ্যে সইবে না। আমাকে অনুপস্থিত থাকতেই হবে। একটু থামো, কথাটা শেষ করতে দাও। শুনেইছ ডাক্তার বলেছেন বেশিদিন ওঁর সময় নেই। এইটুকুর মধ্যে ওঁর মনের কাটা তোমাকে উপড়ে দিতেই হবে। এই কয়দিনের মধ্যে আমার ছায়া কিছুতেই পড়তে দিয়ো না ওঁর জীবনে ৷” “আমার মন থেকে আপনিই ছায়া যদি পড়ে, তবে কী করতে পারি।” “ন না, নিজের সম্বন্ধে অমন অশ্রদ্ধার কথা বোলো না । সাধারণ বাঙালি ছেলের মতো ভিজে মাটির তলতলে মন কি তোমার । কক্ষনে না, আমি তোমাকে জানি।” আদিত্যের হাত ধরে বললে, “আমার হয়ে এই ব্রতটি তুমি নাও। দিদির জীবনান্তকালের শেষ ক’টা দিন দাও তোমার দাক্ষিণ্যে পূর্ণ করে। একেবারে ভুলিয়ে দাও যে, আমি এসেছিলেম ওঁর সৌভাগ্যের ভর ঘট ভেঙে দেবার জন্যে ।” আদিত্য চুপ করে দাড়িয়ে রইল । “কথা দাও ভাই ।” “দেব, কিন্তু তোমাকেও একটা কথা দিতে হবে বলে, রাখবে।” “তোমার সঙ্গে আমার তফাত এই যে, আমি যদি তোমাকে কিছু প্রতিজ্ঞ করাই সেটা সাধ্য, কিন্তু তুমি যদি করাও সেটা হয়তো অসম্ভব হবে।” “না, হবে না।” “আচ্ছা, বলে ।” “যে কথা মনে মনে বলি সে কথা তোমার কাছে মুখে বলতে অপরাধ নেই। তুমি যা বলছ তা শুনব এবং সেটা বিনা ক্রটিতে পালন করা সম্ভব হবে যদি নিশ্চিত জানি একদিন তুমি পূর্ণ করবে আমার সমস্ত শূন্যতা। কেন চুপ করে রইলে ।” “জানি নে যে ভাই, প্রতিজ্ঞা পালনে কী বিস্ত্র একদিন ঘটতে পারে।” “বিল্প তোমার অস্তরে অাছে কি । সেই কথাটা বলে। আগে ।” “কেন আমাকে দুঃখ দাও । তুমি কি জান না এমন কথা আছে ভাষায় বললে যার অালো যায় নিভে ।” “আচ্ছা, এই শুনলুম, এই শুনেই চললুম কাজে ।” “অরি ফিরে তাকাবে না এখন ?”