পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లిన রবীন্দ্র-রচনাবলী ভারতবর্ষের প্রাচীন তপোবনে ব্রহ্মবিদ্যাপরায়ণ গুরু মুক্তিকাম ছাত্রগণকে যে-মন্ত্রে আহবান করিয়াছিলেন সে-মন্ত্র বহুদিন এ দেশে ধ্বনিত হয় নাই। আজ আমাদের বিদ্যালয় সেই গুরুর স্থানে দণ্ডায়মান হইয়া ব্রহ্মপুত্র এবং ভাগীরথীর তীরে তীরে এই বাণী প্রেরণ করিতেছেন : যথাপঃ প্রবতা যস্তি যথা মাস অহর্জরম্, এবং মাং ব্রহ্মচারিণে ধাতরায়ন্তু সর্বতঃ স্বাহা । জলসকল যেমন নিম্নদেশে গমন করে, মাসসকল যেমন সংবৎসরের দিকে ধাবিত হয়, তেমনি সকল দিক হইতে ব্রহ্মচারিগণ আমার নিকটে অস্বিন— স্বাহা । সহ বীর্যং করবাবহৈ । আমরা উভয়ে মিলিত হইয়া যেন বীর্য প্রকাশ করি । তেজস্বি নাবধীতমস্ত । \ তেজস্বিভাবে আমাদের অধ্যয়ন-অধ্যাপনা হউক । মা বিদ্বিষাবহৈ । আমরা পরস্পরের প্রতি যেন বিদ্বেষ না করি । ভদ্রন্নে৷ অপি বাতয় মনঃ । হে দেব, আমাদের মনকে মঙ্গলের প্রতি সবেগে প্রেরণ করে । >\つ> ○ আবরণ পায়ের তেলোটি এমন করিয়া তৈরি হইয়াছিল যে, খাড়া হইয়া দাড়াইয়া পৃথিবীতে চলিবার পক্ষে এমন ব্যবস্থা আর হইতে পারে না। যেদিন হইতে জুতা পরিতে শুরু করিলাম, সেই দিন হইতে তেলোকে মাটির সংস্রব হইতে বাচাইয়া তাহার প্রয়োজনকেই মাটি করিয়া দেওয়া গেল। পদতল এতদিন অতি সহজেই আমাদের ভার বহন করিতেছিল, এখন হইতে পদতলের ভার আমাদিগকে লইতে হইল। এখন খালিপায়ে পথে চলিতে হইলে পদতল আমাদের সহায় না হইয়া পদে পদে দুঃখের কারণ হইয়। উঠে। শুধু তাই নয়, ওটাকে লইয়া সর্বদাই সতর্ক থাকিতে হয় ; মনকে নিজের পদতলের সেবায় নিযুক্ত না রাখিলে বিপদ ঘটে । ওখানে ঠাণ্ড লাগিলেই হাচি, জল লাগিলেই জর— অবশেষে মোজা, চটি, গোড়তলা জুতা, বুট প্রভৃতি বিবিধ উপচারে এই প্রত্যঙ্গটির পূজা করিয়া ইহাকে সকল কর্মের বাহির করিয়া দেওয়া হয়। ঈশ্বর আমাদিগকে খুর দেন নাই বলিয়৷ ইহা তাহার প্রতি একপ্রকার অনুযোগ ।