পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শব্দতত্ত্ব \O8 S প’ল ম’ল ইত্যাদি। অর্থাৎ যদি কোনো স্থলে অ-এর পরবর্তী ই অপভ্রংশে লোপ হইয়া থাকে, তথাপিও পূর্ববর্তী অ-এর উচ্চারণ ও হইবে । হইলে-র অপভ্রংশ হ’লে, করিলে-র অপভ্রংশ ক’বুলে, পড়িল— প’ল, মরিল— ম’ল। করিয়া-র অপভ্রংশ ক’রে, এইজন্য ক-এ ওকার যোগ হয়, কিন্তু সমাপিকা ক্রিয়া করে? অবিকৃত থাকে । কারণ করে শব্দের মধ্যে ই নাই এবং ছিল না। ৫ম। ঋফলা-বিশিষ্ট বর্ণ পরে আসিলে তৎপূর্বের অকার ও হয় ; যথা, কর্তৃক ভর্তু মন্থণ যকৃত বক্তৃত৷ ইত্যাদি। ইহার কারণ স্পষ্ট পড়িয়া রহিয়াছে, বঙ্গভাষায় ঋফলার উচ্চারণের সহিত ইকারের যোগ অাছে। ৬ষ্ঠ । এবারে যে-নিয়মের উল্লেখ করিতেছি তাহ নিয়ম কি নিয়মের ব্যতিক্রম বুঝা যায় না। দ্ব্যক্ষর-বিশিষ্ট শব্দে দস্ত্য ন অথবা মূর্ধন্ত ৭ পরে থাকিলে পূর্ববর্তী অকার ‘ও’ হইয়া যায় ; যথা, বন ধন জন মন মণ পণ ক্ষণ । ঘন শব্দের উচ্চারণের স্থিরতা নাই। কেহ বলেন ‘ঘনো দুধ’, কেহ বলেন ‘ঘোনো দুধ’ । কেবল গণ এবং রণ শব্দ এই নিয়মের মধ্যে পড়ে না। তিন অথবা তাহার বেশি অক্ষরের শব্দে এই নিয়ম খাটে না ; যেমন, কনক গণক সনসন কনকন। তিন অক্ষরের অপভ্রংশে যেখানে দুই অক্ষর হইয়াছে, সেখানেও এ নিয়ম খাটে না ; যেমন, কহেন শব্দের অপভ্রংশ ক’ন, হয়েন শব্দের অপভ্রংশ হ’ন ইত্যাদি । যাহা হউক ষষ্ঠ নিয়মটা তেমন পাক নহে। ৭ম । ৪র্থ নিয়মে বলিয়াছি অপভ্রংশে ইকারের লোপ হইলেও পূর্ববর্তী ‘অ’ ‘ও’ হইয়াছে। অপভ্রংশে উকারের লোপ হইলেও পূর্ববর্তী অ উচ্চারণস্থলে ও হইবে ; যথা, হউন— হ’ন, রহুন— র’ন, কহুন– ক’ন ইত্যাদি । ৮ম । রফলা-বিশিষ্ট বর্ণের সহিত আ লিপ্ত থাকিলে তাহা ‘ও’ হইয়া যায় ; যথা, শ্রবণ ভ্ৰম ভ্রমণ ব্ৰজ গ্রহ ত্ৰস্ত প্রমাণ প্রতাপ ইত্যাদি । কিন্তু য় পরে থাকিলে অ-এর বিকার হয় না ; যথা, ক্রয় ত্রয় শ্রয়। দুয়েকটি ছাড়া যতগুলি নিয়ম উপরে দেওয়া হইয়াছে, তাহাতে বুঝাইতেছে ই কিংবা উ-এর পূর্বে অ-এর উচ্চারণ ও হইয়া যায়। এমন-কি, ইকার উকার অপভ্রংশে লোপ হইলেও এ নিয়ম খাটে । এমন-কি, যফলা ও ঋফলায় ইকারের সংস্রব আছে বলিয়া তাহার পূর্বেও অ-এর বিকার হয়। ইকারের পক্ষে যেমন যফলা, উকারের পক্ষে তেমনই বফল— উ-এ অ-এ মিলিয়া বফলা হয় ; অতএব আমাদের নিয়মানুসারে বফলার পূর্বেও অকারের বিকার হওয়া উচিত। কিন্তু বফলার উদাহরণ অধিক সংগ্ৰহ করিতে পারি নাই বলিয়। এ কথা জোর করিয়া বলিতে পারিতেছি না। কিন্তু যে দুই তিনটি মনে আসিতেছে তাহাতে আমাদের কথা খাটে ; যথা, অন্বেষণ ধন্বন্তরী মন্বস্তর। ১২২৩