পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


O6 o রবীন্দ্র-রচনাবলী ঔকারের পরেও এ নিয়ম খাটে। কারণ ঔ– অ এবং উ-মিশ্রিত যুক্তস্বর ; যথা : নৌকা— নেীকো কৌটা— কোঁটো সর্বশেষে বক্তব্য এই যে, বাংলার দুই-একটা উচ্চারণবিকার এমনই দৃঢ়মূল হইয়া গেছে যে, যেখানেই হউক তাহার অন্যথা দেখা যায় না ; যেমন ইকার এবং উকারের পূর্ববর্তী অ-কে আমরা সর্বত্রই 'ও' উচ্চারণ করি। সাধুভাষায় লিখিত কোনো গ্রন্থ পাঠকালেও আমরা কটি এবং কটু শব্দকে কোটি এবং কোটু উচ্চারণ করিয়া থাকি । কিন্তু অন্তকার প্রবন্ধে যে-সকল দৃষ্টাস্ত দেওয়া গেল তৎসম্বন্ধে এ কথা খাটে না । আমরা প্রচলিত ভাষায় যদিও মুঠা-কে মুঠো বলি, তথাপি গ্রন্থে পড়িবার সময় মুঠ। পড়িয়া থাকি ; চলিত ভাষায় বলি নিন্দে, সাধু ভাষায় বলি নিন্দ। অতএব এই দুই প্রকারের উচ্চারণের মধ্যে একটা শ্রেণীভেদ আছে। পাঠকদিগকে তাহার কারণ আলোচনা করিতে সবিনয় অকুরোধ করিয়া প্রবন্ধের উপসংহার করি । 〉、 বীম্সের বাংলা ব্যাকরণ ইংরেজিতে একটা প্রবাদ অাছে ভুল করা মানবধর্ম, বিশেষত বাঙালির পক্ষে ইংরেজি ভাষায় ভুল করা। সেই প্রবাদের বাকি অংশে বলে, মার্জন করা দেবধর্ম। কিন্তু বাঙালির ইংরেজি-ভুলে ইংরেজরা সাধারণত দেবত্ব প্রকাশ করেন না। আমাদের ইস্কুলে-শেখ ইংরেজিতে ভুল হইবার প্রধান কারণ এই যে, সে-বিদ্যা পুথিগত । আমাদের মধ্যে যাহার। দীর্ঘকাল বিলাতে বাস করিয়াছেন, তাহার। ইংরেজিভাষার ঠিক মর্মগ্রহ করিতে পারিয়াছেন । এইজন্য অনেক খাটি ইংরেজের ন্যায় তাহারা হয়তো ব্যাকরণে ভুল করিতেও পারেন, কিন্তু ভাষার প্রাণগত মর্মগত ভূল করা তাহদের পক্ষে বিরল। এ দেশে থাকিয়া যাহারা ইংরেজি শেখেন, তাহারা কেহ কেহ ব্যাকরণকে বাচাইয়াও ভাষাকে বধ করিতে ছাড়েন না। ইংরেজগণ তাহাতে অত্যন্ত কৌতুক বোধ করেন। সেইজন্য আমাদেরও বড়ো ইচ্ছা করে, যে-সকল ইংরেজ এ দেশে সুদীর্ঘকাল বাস করিয়া, দেশীভাষা শিক্ষার বিশেষ চেষ্টা করিয়া ও সুযোগ পাইয়াও সে-ভাষা সম্বন্ধে ভুল করেন তাহদের প্রতি হাস্যরস বর্ষণ করিয়া পালট জবাবে গায়ের ঝাল মিটাই । সন্ধান করিলে এ সম্বন্ধে দুই একটা বড়ো বড়ো দৃষ্টাস্তও পাওয়া যায়। বাবু-ইংরেজির