পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৭২ রবীন্দ্র-রচনাবলী দেখা হয়। অনেক অনেক লোক, বলিলে লোকগুলিকে অংশে অংশে ভাগ করা হয়, কিন্তু শুদ্ধ ‘অনেক লোক’ বলিলে নিরবচ্ছিন্ন বহু লোক বোঝায় । লাল লাল, কালে কালো, লম্বা লম্বা, মোটা মোটা, রকম রকম— এগুলিও পূর্বোক্ত শ্রেণীর । লাল লাল ফুল, বলিলে ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলি লাল ফুল বোঝায়। যাকে যাকে, যেমন যেমন, যেখানে যেখানে, যখন যখন, যত যত, যে যে, যার যারা— এগুলিও পূর্বোক্তরূপ। আশায় আশায়, ভয়ে ভয়ে— এ দুইটিও ওই প্রকার। আশায় আশায় আছি, অর্থাৎ প্রত্যেক বার অাশা হইতেছে ; ভয়ে ভয়ে আছি, অর্থাৎ বারংবার ভয় হইতেছে। অর্থাৎ ক্ষণে ক্ষণে পৃথক পৃথক রূপে অাশা বা ভয় উদ্রেক করিতেছে। মুঠো মুঠো, ঝুড়ি ঝুড়ি, বস্তা বস্তী— এগুলিও পূর্বাহুরূপ। টাটক৷ টাটকা, গরম গরম, ঠিক ঠিক— এগুলি প্রকর্ষবাচক । টাটক৷ টাটক৷ বলিলে টাটক৷ শব্দকে বিশেষ করিয়া নিশ্চয় করিয়া বলা যায়। চার চার, তিন তিন— এগুলিও পূর্ববং । চার চার পেয়াদা আসিয়া হাজির, অর্থাৎ নিতান্তই চারটে পেয়াদী বটে । গলায় গলায় (আহার ) কানে কানে (কথা)— ইহাও পূর্বশ্রেণীর ; অর্থাৎ অত্যন্তই গলা পর্যন্ত পূর্ণ, নিতান্তই কানের নিকটে গিয়া কথা। হাতে হাতে ( ফল, বা ধর পড়া ), বোধ করি স্বতন্ত্রজাতীয় । বোধ করি তাহার অর্থ এই যে, যেমনি হাত দিয়৷ কাজ করা অমনি সেই হাতেই ফল প্রাপ্ত হওয়া, যে-হাতে চুরি করা সেই হাতেই ধৃত হওয়া । নিজে নিজে, আপনি আপনি, তখনই তখনই– পূর্বানুরূপ। অর্থাৎ বিশেষরূপে নিজেই, আপনিই আর কেহই নহে, বিলম্বমাত্র না করিয়া তৎক্ষণাৎ । সকাল সকাল শব্দও বোধ করি এই-জাতীয়, অর্থাৎ নিশ্চয়রূপে দ্রুতরূপে সকাল। জল জল, চুর চুর, ঘুৰ্ব ঘুৰ্ব, টল্‌ টল, নড়, নড় — এগুলি জলন চূর্ণন ঘূর্ণন টলন নর্তন শব্দজাত ; এগুলিতেও প্রকর্ষভাব ব্যক্ত হইতেছে। বাংলা অনেকগুলি শব্দদ্বৈতে দ্বিধা, ঈষদুনতা, মৃদুতা, অসম্পূর্ণতার ভাব ব্যক্ত করে ; যথা, যাব যাব, উঠি উঠি ; মেঘ মেঘ, জর জর, শীত শীত, মরমর, পড়ে পড়ে, ভর। ভর, ফাকা ফাক, ভিজে ভিজে, ভাসা ভাসা, কাদো কাদো, হাসি হাসি। মানে মানে, ভাগ্যে ভাগ্যে শব্দের মধ্যেও এই ঈষদূনতার ভাব আছে। মানে মানে পলায়ন, অর্থে– মান প্রায় যায় যায় করিয়া পলায়ন । ভাগ্যে ভাগ্যে রক্ষণ পাওয়৷ অর্থাৎ যেটুকু ভাগ্যস্থত্রে রক্ষা পাওয়া গেছে তাহা অতি ক্ষীণ।