পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শব্দতত্ত্ব \రిఫిసి বেদনাবোধকে কাল্পনিক ধ্বনির ভাষায় তর্জমা করিয়া প্রকাশ করা হইতেছে। মাঠ ধৃ ধূ করিতেছে, রৌদ্র বা বা করিতেছে, শূন্য ঘর গম্গম করিতেছে, ভয়ে গা ছমছম করিতেছে, এগুলিকে অন্য ভাষায় বলিতে গেলে বিস্তারিত করিয়া বলিতে হয় এবং বিস্তারিত করিয়া বলিলেও ইহার অনির্বচনীয়তাটুকু হৃদয়ের মধ্যে তেমন অনুভবগম্য হয় না ; এরূপ স্থলে এই প্রকার অব্যক্ত অস্ফুট ভাষাই ভাবব্যক্ত করিবার পক্ষে বেশি উপযোগী। একটা জিনিসকে লাল বলিলে তাহার বস্তুগুণসম্বন্ধে কেবলমাত্র একটা খবর দেওয়া হয়, কিন্তু, লাল টুক্‌টুক্‌ করিতেছে বলিলে সেই লাল রং আমাদের অনুভূতির মধ্যে কেমন করিয়া উঠিয়াছে, তাহাই একটা অর্থহীন কাল্পনিক ধ্বনির সাহায্যে বুঝাইবার চেষ্টা করা যায়। ইহা ইঙ্গিত, ইহা বোবার ভাষা। বাংলাভাষায় এইরূপ অনির্বচনীয়তাকে ব্যক্ত করিবার চেষ্টায় এই প্রকারের অব্যক্ত ধ্বনিমূলকশব্দ প্রচুররূপে ব্যবহার করা হয়। ভালো করিয়া ছবি আঁকিতে গেলে শুধু গোটকতক মোট রং লইয়া বসিলে চলে না, নামা রকমের মিশ্র রং, স্থল্ম রঙের দরকার হয় । বর্ণনার ভাষাতেও সেইরূপ বৈচিত্র্যের প্রয়োজন। শরীরের গতি সম্বন্ধে ইংরেজিভাষায় কত কথা আছে ভাবিয়া দেখিবেন, walk run hobble waggle wade creep crawl osts; ; Tiod fifts sixth কেবল দ্রুতগতি ও মন্দগতি দ্বারা এই সমস্ত অবস্থা ব্যক্ত করা যায় না। কিন্তু কথিত ভাষা লিখিত ভাষার মতো বাৰু নহে, তাহাকে যেমন করিয়া হউক প্রতিদিনের নানান কাজ চালাইতে হয় ; যতক্ষণ বোপদেব পাণিনি অমরকোষ ও শব্দকল্পদ্রুম আসিয়া তাহাকে পাশ ফিরাইয়া না দেন ততক্ষণ কণত হইয়া পড়িয়া থাকিলে তাহার চলে না ; তাই সে নিজের বর্ণনার ভাষা নিজে বানাইয়া লইয়াছে, তাই তাহাকে কখনো সঁ৷ করিয়া, কখনো গঢ়গঢ় করিয়া, কখনো খুটুস খুটুম্ব করিয়া, কখনো নড়বড় করিতে করিতে, কখনো স্থড় স্থড় করিয়া, কখনো থপথপ এবং কখনো থপাস থপাস করিয়া 5fĦING KH | Řezifrētā laugh, smile, grin, simper, chukle Ff Hi নানাবিধ আনন্দ কৌতুক ও বিদ্রুপ প্রকাশ করে ; বাংলাভাষা খলখল করিয়া, খিলখিল করিয়া, হোহো করিয়া, হিহি করিয়া, ফিক ফিক্‌ করিয়া, ফিক্‌ করিয়া এবং মুচ কিয়া হাসে । মুচকে হাসির জন্য বাংলা অমরকোষের কাছে ঋণী নহে। মচ কান শব্দের অর্থ বাকান, বাকাইতে গেলে যে মচ করিয়া ধ্বনি হয় সেই ধ্বনি হইতে এই কথার উৎপত্তি। উহাতে হাসিকে ওষ্ঠাধরের মধ্যে চাপিয়া মচকাইয়া রাখিলে তাহ মুচকে হাসিরূপে একটু বাকাভাবে বিরাজ করে। বাংলাভাষার এই শব্দগুলি প্রায়ই জোড়াশব্দ। এগুলি জোড়াশব্দ হইবার কারণ