পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 ob“ s রবীন্দ্র-রচনাবলী অনির্দিষ্টত প্রকাশ করে। কাণ্ড-কারখানা চুরি-চামারি হাসিখুশি প্রভৃতি কথাগুলির মধ্যে ভাষাও অাছে আভাসও আছে । * যে-সকল পদার্থ আমরা সচরাচর একসঙ্গে দেখি তাহদের মধ্যে বাছিয়া দুটি পদার্থের নাম একত্রে জুড়িয়া বাকিগুলাকে ইত্যাদিভাবে বুঝাইয়া দিবার প্রথাও বাংলায় প্রচলিত অাছে, যেমন, ঘটিবাট। যদি বলা যায় ঘটিবাটি সামলাইয়ো, তাহার অর্থ এমন নহে যে, কেবল ঘটি ও বাটিই সামলাইতে হুইবে, এই সঙ্গে থালা ঘড়ী প্রভৃতি অনেক অস্থাবর জিনিস আসিয়া পড়ে। কাহারও সহিত মাঠে-ঘাটে দেখা হইয়া থাকে, বলিলে কেবল যে ওই দুটি মাত্র স্থানেই সাক্ষাৎ ঘটে তাহা বুঝায় না, উক্ত লোকটির সঙ্গে যেখানে-সেখানেই দেখা হয় এইরূপ বুঝিতে হয় । এইরূপ জোড়াকথার দৃষ্টান্ত ; পথঘাট ঘর-দুয়োর ঘটিবাটি কাছা-কোচ হাতিঘোড়া বাঘ-ভাল্লুক খেলাধুলা ( খেলা-দেয়াল ) পড়াশুনা খালবিল লোক-লশকর গাডু-গামছ। লেপকাথ৷ গান-বাজনা খেতখোলা কানাখোড়া কালিয়া-পোলাও শাকভাত সেপাই-সাস্ত্রী নাড়িনক্ষত্র কোলেপিঠে কাঠখড় দত্যিদানো ভূতপ্রেত। (. বিপরীতাৰ্থক শব্দ জুড়িয়া সমগ্রতা ও বৈপরীত্য বুঝাইবার দৃষ্টান্ত । আগাগোড়া ল্যাজামুড়ে আকাশ-পাতাল দেওয়া-থোওয়া নরম-গরম আনাগোনা উলটোপালট তোলপাড় আগা-পাস্তাড়া। এই যতপ্রকার জোড়াশব্দের তালিকা দেওয়া গেছে সংস্কৃত সমাসের সঙ্গে তাহীদের বিশেষত্ব এই যে, শব্দগুলির যে-অর্থ তাহদের ভাবটা তাহার চেয়ে বেশি এবং এই কথার জুড়িগুলি যেন একেবারে চিরদাম্পত্যে বাধা । বাঘভাল্লুক না বলিয়া বাঘসিংহ বলিতে গেলে একটা অত্যাচার হইবে ; বনজঙ্গল এবং ঝোপঝাড় শব্দকে বনঝাড় এবং ঝোপজঙ্গল বলিলে ভাষা নারাজ হয়, অথচ অর্থের অসংগতি হয় না । এইখানে ইংরেজিতে যে-সকল ইঙ্গিতবাক্য প্রচলিত আছে তাহার যে-কয়েকটি দৃষ্টান্ত মনে পড়িতেছে উল্লেখ করিতে ইচ্ছা করি ; বাংলার সহিত তুলনা করিলে orištąral Miss cyfnts offềza : nick-nack riff-raff wishy-washy dilly-dally shilly-shally pit-a-pat bric-abrac এই উদাহরণগুলিতে জোড়াশন্ধের দ্বিতীয়ার্ধে আকারের প্রাচুর্ভাব দেখা । যাইতেছে। আমরা পূর্বেই দেখিয়াছি, বাংলাতেও এইরূপস্থলে শেষার্ধে আকারটাই আসিয়া পড়ে ; যেমন, হো-হা জো-জা জোর-জার । কিন্তু যেখানে প্রথমার্ধে আকার থাকে, দ্বিতীয়ার্ধে সেখানে ওকারের প্রচলনই বেশি ; যেমন, ঘা-ঘো টান-টোন টায়-টোয় ঠারে-ঠোরে । সবশেষে যদি ইকার থাকে তবে মাঝের ওকার উ হইয়া যায়, যেমন জারি-জুরি ।