পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষা । (t S& পূর্বপ্রশ্নের অনুরক্তি বৈশাখের ভাণ্ডারে যে-প্রশ্ন তোলা হইয়াছিল অর্থাৎ আমাদের দেশের পরিক উদযোগগুলির সঙ্গে দেশের প্রাকৃতসাধারণের যোগ রক্ষার উপায় কী— দেশের নানা বিশিষ্ট লোকের কাছ হইতে তাহার উত্তর পাওয়া গেছে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যাহারা লিখিয়াছেন, তাহারা আমাদের দেশের আধুনিক উদযোগগুলির উপকারিতা সম্বন্ধে একমত নহেন, তবু মোটের উপর তাহাদের উত্তরগুলির মধ্যে কোনো অনৈক্য নাই । র্তাহারা সকলেই এই কথা বলেন যে, প্রাকৃতসাধারণকে আমাদের পরিক উদযোগে আহবান করা এখন চলে না। আগে তাহাদের শিক্ষার ভালো বন্দোবস্ত করা চাই । • তাহার কারণ ইহারা বলিতেছেন, দেশ বলিতে কী বুঝায় তাহ দেশের সাধারণ লোকে বুঝে না, এবং দেশের হিত যে কেমন করিয়া করিতে হইবে তাহাও ইহাদের বুদ্ধিতে আসিবে না। অতএব, ইস্কুল করিয়া এবং অন্ত পাচরকম উপায়ে ইহাদের শিক্ষার গোড়াপত্তন করিয়া দেওয়া চাই । কথাটা একটা বড়ো কথা, প্রথমে এ বিষয়ে সমাজে একটা মতের স্থিরতা হওয়া চাই, তার পরে কাজে যুগিতে হইবে । ভাণ্ডারের পরীক্ষায় এটা দাড়াইতেছে যে, মতের মিল হইয়াছে। কিন্তু কর্তব্যসম্বন্ধে মতের মিল হওয়া সহজ, উপায় সম্বন্ধে মিল হওয়াই কঠিন । তবু কাজ আরম্ভ করিতে হইলে কাজের কথা পাড়িতেই হইবে, কোথায় কী বিঘ্ন আছে তাহা স্পষ্ট করিয়া ভাবিয়া না দেখিলে চলিবে না। আমরা দেখিতেছি, গবর্মেন্ট আমাদের দেশের প্রাকৃতসাধারণের শিক্ষার একটা বিশেষ বন্দোবস্ত করিতে উদযোগী হইয়াছেন । ইহাও দেখিতেছি, সেইসঙ্গে তাহারা ভারি একটা দ্বিধার মধ্যে পড়িয়া গেছেন । র্তাহারা দেখিয়াছেন, দেশের লোক রোগে এবং দুর্ভিক্ষে একেবারে অবাধে মারা পড়িতেছে । ইহাতে র্তাহাদের শাসনকার্যের একটা ভারি কঠিন সমস্যা উপস্থিত হইয়াছে। প্রজার অন্নবস্ত্র এবং প্রাণটা বঁাচানো কেবল যে প্রজার হিত তাহা নহে, তাহ রাজারও স্বার্থ। ১ প্রশ্নকর্তা সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ২ নগেন্দ্রনাথ ঘোষ, গ্রহীরেন্দ্রনাথ দত্ত, আশুতোষ চৌধুরী, শ্ৰীযোগেশচন্দ্র চৌধুরী, রামোহনার ত্রিবেদী, পৃথ্বীশচন্দ্র রায়, বিপিনচত্র পাল— ভাণ্ডার, বৈশাখ, ১৩১২