পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


¢ ዓ\9 রবীন্দ্র-রচনাবলী রাখিবার জন্য ষোলো মাত্রায় সা-ত-সা-ত্তে-উ-ন-প-ঞ্চ-শ উচ্চারণ করিতেন,তবে তাহার অপেক্ষা নির্বোধ ছেলে দ্রুত আওড়াইয়া দিয়া ক্লাসে র্তাহার উপরে উঠিয়া যাইত । সংস্কৃতব্যাকরণকেই যদি মানিতে হয়, তবে কেবল মাত্রায় কেন উচ্চারণেও মানিতে হয়। পণ্ডিতমহাশয়ের যদি লক্ষ্মীনারান বলিয়। চাকর থাকে এবং তিনি অষ্টাধ্যায়ীর মতে দীর্ঘ-হ্রস্ব-পুত স্বরের মাত্র ও কণ্ঠ-তালব্য-মূর্ধন্যের নিয়ম রাখিয়া লক্ষমীনারায়ড়’ বলিয়া ডাক পাড়েন তবে এক লক্ষ্মীনারান কেন, রাস্তার লোক সুদ্ধ আসিয়া হাজির হয়। কাজেই বাংলা ‘ক্ষ’ সংস্কৃত ক্ষ নহে এবং বাংলার মাত্রা সংস্কৃতের মাত্রা নহে, এ কথা বাংলাব্যাকরণকার প্রচার করা কর্তব্য বোধ করেন । এইজন্য স্বয়ং মাত৷ সরস্বতীও যখন বাংলা বলেন, বাঙালির ছেলেরা তাহ নিজের মাতৃভাষা বলিয়া চিনিতে পারে— তবে তাহারই বরপুত্র হইয়া পণ্ডিতমহাশয় বাংলাভাষার বাংলানিয়মের প্রতি এত অসহিষ্ণু কেন। তিনি অত্যন্ত উদ্ধত হইয়৷ বলিয়াছেন যে, তিনি আর-কিছুরই প্রতি দৃকপাতমাত্র করিবেন না, কেবল একমাত্রিক শব্দের দেশীয় ব্যাকরণ ও অভিধানামুযায়ী অর্থ গ্রহণ করিবেন। তাই করুন, আমরা বাধা দিব না। কিন্তু ইহ দেখা যাইতেছে, অর্থ জিনিসটাকে গ্রহণ করিব বলিলেই করা যায় না। অভিধানব্যাকরণ অর্থের লোহার সিন্ধুক— তাহারা অর্থ দিতে পারে না, বহন করিতে পারে মাত্র। চাবি লাগাইয়া সেই অর্থ লইতে হয়। প্রতিবাদী মহাশয় তাহার প্রবন্ধের একস্থলে প্রশ্ন করিয়াছেন : রবীন্দ্রবাবু লিখিয়াছেন খ্যালো মাংস— এই ধ্যালোটা কী । অবশেষে শ্রাস্ত, বিমর্ষ, হতাশ হইয়া লিখিতেছেন : অনেককে জিজ্ঞাসা করিলাম, কেহই বলিতে পারিলেন না। কলিকাতার অধিবাসী অথচ যাহাদের গৃহে সাহিত্যচর্চাও আছে এবং নির্বিশেষে মৎস্যমাংসের গতিবিধিও আছে এমন ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসু হইয়াছি, তাহাতেও কোনো ফল হয় নাই । পণ্ডিতমহাশয়ের যে এত প্রচুর শ্রম ও দুঃখের কারণ হইয়াছি, ইহাতে নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছা হয় । আমার প্রবন্ধ বহন করিয়া আজ পর্যন্ত পরিষৎপত্রিক বাহির হয় নাই, এবং পণ্ডিতমহাশয় আমার পাঠ শুনিয়াই প্রতিবাদ লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন, এ কথা স্বীকারই করিয়াছেন। অতএব, যখন আমি থ্যাৎলা’ বলিয়াছিলাম, তখন যদি বক্তার দুরদৃষ্ট ক্রমে শ্রোতা থ্যালো-ই শুনিয়া থাকেন, তবে সেজন্য বক্তা ক্ষমা প্রার্থনা করিতে প্রস্তুত আছেন। কিন্তু জিজ্ঞাস্য এই যে, দুস্কৃতিকারীকে তৎক্ষণাৎ শাসন না করিয়৷ যে-সকল নিতান্ত নিরীহ নিরপরাধ লোক কলিকাতায় বাস করেন অথচ সাহিত্যচর্চা করেন এবং মৎস্য মাংস খাইয়া