পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(t Ջե- ية. রবীন্দ্র-রচনাবলী তারার প্রবাহের মতে, সৌর জগতের গ্রহ-উপগ্রহের ছুটে চলার মতো এই বিশ্ব কোন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রতি মুহূর্তে কত মাইল বেগে ছুটে চলেছে। কেন তাদের এই ছুটাছুটি তা জানি নে, কিন্তু ধাবমান নক্ষত্রের মতো তাদের একমাত্র এই বাণী— এখানে নয়, এখানে নয় । বলাকার ৬ সংখ্যক কবিতার প্রথম শ্লোকের শেষ ছত্র, ( পৃ. ১১)– “হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি” স্থলে “হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি ?” পড়িতে হইবে। ৩৮ সংখ্যক কবিতার শেষ শ্লোকের শেষ ছত্রে (পৃ. ৬৫)—“নব মেঘের বেণী” স্থলে “নব মেঘের বাণী” পড়িতে হইবে । ফাল্গুনী, ফাঙ্কনী ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে ( ১৩২২ ) গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় । গীতিভূমিকার গানগুলি ও সর্বশেষের উৎসবের গানটি একত্রে বসস্তের পালা’ নামে নাটকের প্রবেশকরূপে, এবং নাটক অংশটি ‘ফাল্গুনী’ নামে ১৩২১ সালের চৈত্র মাসের সবুজপত্রে সম্পূর্ণ পত্রিকাটি জুড়িয়া প্রকাশিত হয়। এই দুইটি অংশের রবীন্দ্রনাথ যে-দুইটি ভূমিকা লিখিয়াছিলেন তাহা সবুজপত্র হইতে নিম্নে যথাক্রমে মুদ্রিত হইল : ভূমিকা : বসন্তের পাল৷ আর কয়েক পৃষ্ঠা পরে পাঠক ফাঙ্কনী বলিয়া একটা নাটকের ধরনের ব্যাপার দেখিতে পাইবেন। এই বসন্তের পালার গানগুলি তত্ত্বরার মতো তাহারই মূল স্বরকয়টি ধরাইয়া দিতেছে। অতএব এগুলি কানে করিয়া লইলে খেয়াল-নাটকের চেহারাটি ধরিবার সুবিধা হইতে পারে। একদা এপ্রেলের পয়লা তারিখে কবি তার কয়েকজন বন্ধুকে হোটেলে নিমন্ত্রণ করিয়াছিলেন । ভোজটা খুব রীতিমতো জমিয়াছিল ; তারপরে পরিণামে যখন বিল শোধের জন্য অর্থ বাহির করিবার দরকার হইল তখন কবির আর দেখা পাওয়া গেল না। সেদিনকার এই ছিল কৌতুক । এবারকার এপ্রেলেরও কৌতুকটা সেই একই, গোড়াতেই তাহ বলিয়া রাখা ভালো। সবুজ পাতার পাত পাড়িয়া যে-বাসস্তিক ভোজের উদ্যোগ হইল কবি শেষপর্যন্ত তাহাতে যোগ দিবেন কিন্তু যখন সেই ভয়ংকর পরিণামের সময়টা উপস্থিত হইবে, যখন সকলে চিৎকার শব্দে অর্থ দাবি করিতে থাকিবে তখন, হে কবি,—“অন্যে বাক্য ক’বে কিন্তু তুমি রবে নিরুত্তর ” ” ভূমিকা : ফাল্গুনী বসন্তে ঘরছাড়ার দল পাড়া ছাড়িয়াছে। পাড়া জুড়াইয়াছে। ইহাদেরই বসন্তষাপনের কাহিনী কবি লিখিতেছেন । লেখাটা নাট্য কি না তাহা স্থির হয় নাই, ইহা রূপক কি না তাহা লইয়া তর্ক উঠিবে এবং যিনি লিখিতেছেন তিনি কবি কি না