পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Wう>8 রবীন্দ্র-রচনাবলী ফাঙ্কনের সাহিত্য পত্রিকার 'আহার প্রবন্ধ সমালোচনা করিতে গিয়া রবীন্দ্রনাথ লিখিয়াছেন : “শ্রদ্ধাস্পদ লেখক মহাশয় বলেন, “আমাদের মহাজ্ঞানী ও সূক্ষ্মদর্শী শাস্ত্রকারের আহারকে ধর্মের অন্তর্গত করিয়া গিয়াছেন।” এই ভাবের কথা আমরা অনেক দিন হইতে শুনিয়া আসিতেছি, কিন্তু ইহার তাৎপর্য সম্পূর্ণ বুঝিতে পারি না। অনেকেই গৌরব করিয়া থাকেন আমাদের আহার ব্যবহার সমস্তই ধর্মের অন্তভূত— কিন্তু এখানে ধর্ম বলিতে কী বুঝায়। যদি বল, ধর্মের অর্থ কর্তব্যজ্ঞান— মানুষের পক্ষে যাহা ভালো তাহাই তাহার কর্তব্য, ধর্ম এই কথা বলে, তবে জিজ্ঞাসা করি সে কথা কোন দেশে অবিদিত। শরীর সুস্থ রাখা যে মামুষের কর্তব্য, যাহাতে তাহার কল্যাণ হয় তাহাই তাহার অমৃষ্ঠেয় এ কথা কে না বলে। যদি বল, এ স্থলে ধর্মের অর্থ পরলোকে দণ্ডপুরস্কারের বিধান, অর্থাৎ বিশেষ দিনে বিশেষ ভাবে বিশেষ আহার করিলে শিবলোক প্রাপ্তি হইবে এবং না করিলে চতুর্দশ পুরুষ নরকস্থ হইবে, ধর্ম এই কথা বলে, তবে সেটাকে সত্যধর্ম বলিয়। স্বীকার করা যায় না। কোনো এক মহাজ্ঞানী সূক্ষ্মদর্শী শাস্ত্রকার লিথিয়া গিয়াছেন মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে গঙ্গাস্নান করিলে “ত্রিকোটিকুলমুদ্ধরেং” মানিয়া লওয়া যাক উক্ত ত্রয়োদশীতে নদীর জলে স্নান করিলে শরীরে স্বাস্থ্যসাধন হয়, কিন্তু ইহার মধ্যে গৌরবের অংশ কোনটুকু— ওই পুরস্কারের প্রলোভনটুকু ? কেবল ওই মিথ্যা প্রলোভনস্থত্রে এই স্বাস্থ্যতত্ত্ব অথবা আধ্যাত্মিকতত্ত্বের নিয়মটুকুকে ধর্মের সহিত গাথা হইয়াছে। নহিলে স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়ম পালন করা ভালো এবং যাহা ভালো তাহাই কর্তব্য, এ কথা কোন দেশের লোক জানে না। আহারের সময় পূর্বমুখ করিয়! উপবেশন করিলে তাহাতে পরিপাকের সহায়তা ও তৎসঙ্গে মানসিক প্রসন্নতার বৃদ্ধিসাধন করে, অতএব পূর্বমুখে আহার করা ধর্মবিহিত, এ কথা বলিলে প্রমাণ লইয়৷ তর্ক উঠতে পারে কিন্তু মূল কথাটা সম্বন্ধে কাহারও কোনো আপত্তি থাকিতে পারে ন। কিন্তু যদি বলা হয় পূর্বমুখে আহার না করিলে অপবিত্র হইয়া ত্রিকোটিকুলসমেত নরকে পতিত হইতে হইবে, ইহা ধর্ম, অতএব ইহা পালন করিবে, তবে এ কথা লুইয়া গৌরব করিতে পারি না। যাহার সত্য-মিথ্যা প্রমাণের উপর নির্ভর করে, যে-সকল বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞানোন্নতি সহকারে মতের পরিবর্তন কিছুই অসম্ভব নহে, তাহাকে কী বলিয়া ধর্মনিয়মভূক্ত করা যায়। স্বাস্থ্যরক্ষা করা মামুষের কর্তব্য অতএব তাহ ধর্ম, এ মূলনীতির কোনোকালে পরিবর্তন সম্ভব নহে ; কিন্তু কোনো একটা বিশেষ উপায়ে বিশেষ দ্রব্য আহার করা ধর্ম, না করা অধৰ্ম, এরূপ বিশ্বাসে গুরুতর অনিষ্টের কারণ ঘটে । 帶 • মানবনীতির দুই অংশ আছে, এক অংশ স্বতঃসিদ্ধ, এক অংশ যুক্তিসিদ্ধ।’ আধুনিক সভ্য জাতির। এই দুই অংশকে পৃথক করিয়া লইয়াছেন ; এক অংশকে ১ এখানে আমরা তত্ত্ববিদ্যার তর্কে নামিতে চাহি না । বলা আবগুক, স্বতঃসিদ্ধ কিছু আছে বলিয়া অনেকে বিশ্বাস করেন না । 米