পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় । ৬২৩ আমরা কেবল দরখাস্ত করিব, ইংরেজিভাষাতেই আমাদের সমস্ত জাতীয়শিক্ষা সাধন করিবে, আমরা কেবল অভিধান ধরিয়া মুখস্থ করিয়া গেলেই হইবে। ‘শিক্ষার আন্দোলনের ভূমিকা' নামক যে-প্রবন্ধটি পরিশিষ্টে মুদ্রিত হইয়াছে তাহ। বঙ্গবিভাগ আন্দোলনের আনুষঙ্গিক শিক্ষণসমস্যা-সম্পর্কিত। ১৯০৫ সালের অক্টোবর মাসে বঙ্গবিভাগ আন্দোলনে ছাত্রগণের যোগদান নিষিদ্ধ করিয়া স্কুল-কলেজে সাকুলার ( কালাইল সাকুলার ) প্রেরিত হইয়াছে, স্টেটসম্যান পত্রে (২২ অক্টোবর ১৯০৫, ৫ কার্তিক ১৩১২ ) এই সংবাদ প্রকাশিত হইলে বিদ্যালয় বর্জন ও জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বাংলাদেশে যে-আন্দোলন আরম্ভ হয়, তাহার বিস্তারিত বিবরণ ( ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৩১২ পর্যস্ত )-সহ ‘শিক্ষার আন্দোলন’ বা ‘শিক্ষা’ নামে একটি পুস্তিক ভাণ্ডার পত্রের বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়, বর্তমান প্রবন্ধটি তাহারই ভূমিকা । ‘শিক্ষার আন্দোলন’ হইতে বিদ্যালয় বর্জন ও জাতীয়বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থাকল্পে আহত বিভিন্ন সভায় রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি বক্তৃতাও নিম্নে সংকলিত হইল— “বক্তা যে-ভাষায় বক্তৃতা করিয়াছিলেন সে-ভাষায় বক্তৃতা প্রকাশ করা সম্ভব নহে। বক্তৃতার মর্মমাত্র সংকলিত হইয়াছে।” ১০ই কাতিক [ ১৩১২ ] শুক্রবার অপরাহ্লে পটলডাঙা মল্লিকবাড়িতে ছাত্রগণের এক বিরাট সভা হয়। শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সভাপতির আসন গ্রহণ করেন।. সভাপতির বক্তৃত এখন বোধ হয় উত্তেজনা দ্বারা আপনাদের উত্তপ্ত রক্তকে আর উত্তপ্ততর করিবার কোনো প্রয়োজন নাই। আজ আপনার যে-মন্তব্য গ্রহণ করিলেন, কর্তৃপক্ষ তাহ। হয়তো অসংগত মনে করিবেন । তাহারা চোখে খোচাও মারেন, আবার জল বাহির হইলে দোষও ধরেন। শুধু কর্তৃপক্ষ নয়, আমাদের দেশেও অনেক বিবেচক লোক আছেন, তাহারা মনে করেন যে, বিদ্যাভ্যাস ব্যতীত ছাত্রগণের অন্য কোনো কর্যে ১ “গবর্মেন্ট সম্প্রতি স্কুল ও কলেজের ছাত্ৰগণের বিরুদ্ধে যেসকুলার জারি করিয়াছেন তাঁহাতে আমাদিগকে স্পষ্টভাবে স্বদেশের সেবা হইতে বিরত থাকিতে বলা হইয়াছে । ইহাতে আমরা কখনও সম্মত হইতে পারি না বা ভবিষ্যতে পারিব না। অতএব আমরা কলিকাতার ছাত্রবৃন্দ সম্মিলিত হইয়া প্রকাষ্ঠভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, যদি গবর্মেন্টের বিশ্ববিদ্যালয় আমাদিগকে পরিত্যাগ করিতে হয় তাহাও স্বীকার, তথাপি স্বদেশসেবারূপ ষে মহাত্ৰত আমরা গ্রহণ করিয়াছি তাহা কখনও পরিত্যাগ করিব না।”— প্রস্তাবক শচীন্দ্রপ্রসাদ বহু অনুমোদক ফণিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর্থক চুনীলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সতীশচন্দ্র সিংহ ও মহম্মদ সিদিক ।