পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬২ রবীন্দ্র-রচনাবলী অজানা সমুদ্রতীর, অজানা সে-দেশ– সেথাকার লাগি উঠিয়াছে জাগি ঝটিকার কণ্ঠে কণ্ঠে শূন্তে শূন্যে প্রচণ্ড আহবান। মরণের গান উঠেছে ধ্বনিয়া পথে নবজীবনের অভিসারে ঘোর অন্ধকারে । যত দুঃখ পৃথিবীর, যত পাপ, যত অমঙ্গল, যত অশ্রজল, যত হিংসা হলাহল, সমস্ত উঠিছে তরঙ্গিয়া, কুল উল্লজিয়া, উর্ধর্ব আকাশেরে ব্যঙ্গ করি’ । তৰু বেয়ে তরী সব ঠেলে হতে হবে পার, কানে নিয়ে নিখিলের হাহাকার, শিরে লয়ে উন্মত্ত দুর্দিন, চিত্তে নিয়ে অাশা অন্তহীন, হে নিভীক, দুঃখ-অভিহত । ওরে ভাই, কার নিন্দ কর তুমি । মাথা করে নত। এ আমার এ তোমার পাপ । বিধাতার বক্ষে এই তাপ বহু যুগ হতে জমি বায়ুকোণে আজিকে ঘনায়— ভীরুর ভীরুতাপুঞ্জ, প্রবলের উদ্ধত অন্যায়, লোভীর নিষ্ঠুর লোভ, বঞ্চিতের নিত্য চিত্তক্ষোভ, জাতি-অভিমান, মানবের অধিষ্ঠাত্রী দেবতার বহু অসম্মান, বিধাতার বক্ষ আজি বিদারিয়া ঝটিকার দীর্ঘশ্বাসে জলে স্থলে বেড়ায় ফিরিয়: ।