পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী سbسb তাহারি সোনার তান তোমাতে জাগাক গান, এসো হে উজ্জল, কলকল ছলছল । হাকিছে অশান্ত বায়— আয় আয় আয়, সে তোমায় খুজে যায়। তাহার মৃদঙ্গরবে করতালি দিতে হবে, এসো হে চঞ্চল, কলকল ছলছল । অনাবৃষ্টি কোন মায়াবলে তোমারে করেছে বন্দী পাষাণশৃঙ্খলে, ভেঙে নীরসের কারা এসে বন্ধহীন ধারা, এসো হে প্রবল, কলকল ছলছল ॥ কেমন করে কমলিকার ছবি এসে পড়ল গান্ধারে রাজ-অন্তঃপুরে । মনে হল, যা হারিয়েছিল এই-জন্মের আড়ালে, তাই যেন ফিরে ধরা দিল অপরূপ স্বপ্নরূপে । ও আমার চাদের আলো, আজ ফাগুনের সন্ধ্যাকালে ধরা দিয়েছ যে আমার পাতায় পাতায় ডালে ডালে । যে গান তোমার সুরের ধারায় বন্যা জাগায় তারায় তারায় মোর আঙিনায় বাজল সে স্বর আমার প্রাণের তালে তালে । সব কুঁড়ি মোর ফুটে ওঠে তোমার হাসির ইশারাতে, স্বপ্নে-ছাওয়া দখিন হাওয়া আমার ফুলের গন্ধে মাতে । শুভ্ৰ, তুমি করলে বিলোল আমার প্রাণে রঙের হিলোল ; মর্মরিত মর্ম আমার জড়ায় তোমার হাসির জলে ৷ ছবিখানি দিনের চিস্তা রাতের স্বপ্নের পরে আপন ভূমিকা রচনা করলে । তুমি কি কেবলি ছবি, শুধু পটে লিখা। ওই যে সুদূর নীহারিক। যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়, ওই যারা দিনরাত্রি আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী