পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


)〉br রবীন্দ্র-রচনাবলী সন্ন্যাসীর প্রবেশ সন্ন্যাসী সর্বনাশ এল । বাধবে যুদ্ধ, জলবে আগুন, লাগবে মারী, ধরণী হবে বন্ধ্যা, জল যাবে শুকিয়ে । প্রথম। এ কী অকল্যাণের কথা ঠাকুর । উৎসবে এসেছি মহাকালের মন্দিরে— আজ রথযাত্রার দিন । সন্ন্যাসী দেখতে পাচ্ছি না— আজি ধনীর আছে ধন, তার মূল্য গেছে ফাক হয়ে গজভুক্ত কপিখের মতো । ভরা ফসলের খেতে বাসা করেছে উপবাস । যক্ষরাজ স্বয়ং তার ভাণ্ডারে বসেছে প্রায়োপবেশনে । দেখতে পাচ্ছ না— লক্ষ্মীর ভাগু আজ শতছিন্দ্র, র্তার প্রসাদধারা শুষে নিচ্ছে মরুভূমিতে— ফলছে না কোনো ফল । তৃতীয়া ই ঠাকুর, তাই তো দেখি। সন্ন্যাসী তোমরা কেবলই করেছ ঋণ, কিছুই কর নি শোধ, দেউলে করে দিয়েছ যুগের বিত্ত । তাই নড়ে না আজ আর রথ— ওই যে, পথের বুক জুড়ে পড়ে আছে তার অসাড় দড়িটা। প্রথম তাই তো, বাপ রে, গা শিউরে ওঠে— এ যে অজগর সাপ, খেয়ে খেয়ে মোট হয়ে আর নড়ে না