পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী سنا مناخ স্বযোগ করিয়া নলিন মেয়ে দেখিল । যতই মনে হইল, এ মেয়ে নন্দর জন্য একেবারে স্থির হইয়া গেছে ততই বোধ হইতে লাগিল, মেয়েটি রাওলপিগুজার চেয়ে ভালো দেখিতে। দ্বিধাপীড়িত হইয়া নলিন পারিষদকে জিজ্ঞাসা করিল, “কেমন ঠেকছে হে ।” হাজরা কহিল, “আজ্ঞে, আমাদের চোখে তো ভালোই ঠেকছে।” নলিন কহিল, “সে ভালো কি এ ভালো।” হাজরা বলিল, “এ-ই ভালো ।” তখন নলিনের বোধ হইল, ইহার চোখের পল্লব তাহার চেয়ে আরো একটু যেন ঘন ; তাহার রঙটা ইহার চেয়ে একটু যেন বেশি ফ্যাকাশে, ইহার গৌরবর্ণে একটু যেন হলদে আভায় সোনা মিশাইয়াছে। ইহাকে তো হাতছাড়া করা যায় না । 齡 নলিন বিমৰ্ষভাবে চিত হইয়া গুড়গুড়ি টানিতে টানিতে কহিল, "ওহে হাজরা, কী করা যায় বলে তো।” _ হাজরা বলিল, “মহারাজ, শক্তটা কী।” বলিয়া পুনশ্চ অঙ্গুষ্ঠে তর্জনীতে কাল্পনিক টাকা বাজাইয়া দিল । টাকাটা যখন সত্যই সশবে বাজিয়া উঠিল তখন যথোচিত ফল হইতে বিলম্ব হইল না। কন্যার পিতা একটা অকারণ ছুতা করিয়া বরের পিতার সহিত তুমুল ঝগড়া বাধাইলেন। বরের পিতা বলিলেন, “তোমার কন্যার সহিত আমার পুত্রের যদি বিবাহ দিই তবে—” ইত্যাদি, ইত্যাদি। কন্যার পিতা আরো একগুণ অধিক করিয়া বলিলেন, “তোমার পুত্রের সহিত আমার কন্যার যদি বিবাহ দিই তবে—” ইত্যাদি, ইত্যাদি। অতঃপর আর বিলম্ব মাত্র না করিয়া নলিন নন্দকে ফাকি দিয়া শুভলগ্নে শুভবিবাহ সত্বর সম্পন্ন করিয়া ফেলিল। এবং হাসিতে হাসিতে হাজরাকে বলিল, “বি. এ. পাস করা তো একেই বলে। কী বলে হে হাজরা। এবারে আমাদের ও বাড়ির বড়োবাবু ফেল।” অনতিকাল পরেই ননীগোপালের বাড়িতে একদিন ঢাক ঢোল সানাই বাজিয়া উঠিল। নন্দর গায়ে হলুদ । নলিন কহিল, "ওহে হাজরা, খবর লও তো পাত্রীটি কে ৷” হাজরা আসিয়া খবর দিল, পাত্ৰীটি সেই রাওলপিণ্ডির মেয়ে । রাওলপিণ্ডির মেয়ে ! হাঃ হাঃ হাঃ । নলিন অত্যন্ত হাসিতে লাগিল । ও বাড়ির