পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ S>> চারু কহিল, “আর ওই পশ্চিমের কোণটাতে একটা কুঁড়ে তৈরি করে নিতে হবে, হরিণের বাচ্ছা থাকবে ।” অমল কহিল, “আর-একটি ছোটোখাটো ঝিলের মতো করতে হবে, তাতে হাস চরবে।” চারু সে প্রস্তাবে উৎসাহিত হইয়া কহিল, “আর তাতে নীলপদ্ম দেব, আমার অনেকদিন থেকে নীলপদ্ম দেখবার সাধ আছে।” অমল কহিল, “সেই ঝিলের উপর একটি সাকো বেঁধে দেওয়া যাবে, আর ঘাটে একটি বেশ ছোটো ডিঙি থাকবে।” চারু কহিল, “ৰাট অবশু সাদা মার্বেলের হবে।” অমল পেনসিল কাগজ লইয়া রুল কাটিয়া কম্পাস ধরিয়া মহা আড়ম্বরে বাগানের একটা ম্যাপ জাকিল। ஆ উভয়ে মিলিয়া দিনে দিনে কল্পনার সংশোধন পরিবর্তন করিতে করিতে বিশপচিশখান নূতন ম্যাপ অঁাকা হইল। ম্যাপ খাড়া হইলে কত খরচ হইতে পারে তাহার একটা এসটিমেট তৈরি হইতে লাগিল। প্রথমে সংকল্প ছিল— চারু নিজের বরাদ মাসহার হইতে ক্রমে ক্রমে বাগান তৈরি করিয়া তুলিবে ; ভূপতি তো বাড়িতে কোথায় কী হইতেছে তাহা চাহিয়া দেখে না ; বাগান তৈরি হইলে তাহাকে সেখানে নিমন্ত্রণ করিয়া আশ্চর্য করিয়া দিবে ; সে মনে করিবে, আলাদিনের প্রদীপের সাহায্যে জাপান দেশ হইতে একটা আস্ত বাগান তুলিয়া আনা হইয়াছে। কিন্তু এস্টমেট যথেষ্ট কম করিয়া ধরিলেও চারুর সংগতিতে কুলায় না। অমল তখন পুনরায় ম্যাপ পরিবর্তন করিতে বসিল। কহিল, “তা হলে বউঠান, ঐ ঝিলটা বাদ দেওয়া যাক ৷” চারু কহিল, “না না, ঝিল বাদ দিলে কিছুতেই চলবে না, ওতে আমার নীলপদ্ম থাকবে ।” - অমল কহিল, “তোমার হরিণের ঘরে টালির ছাদ নাই দিলে। ওটা আমনি একটা সাদাসিধে খোড়ো চাল করলেই হবে।” চারু অত্যন্ত রাগ করিয়া কহিল, “তা হলে আমার ও ঘরে দরকার নেই— ও থাকৃ।” মরিশস হইতে লবঙ্গ, কর্নাট হইতে চন্দন, এবং সিংহল হইতে দারচিনির চার আনাইবার প্রস্তাব ছিল, অমল তাহার পরিবর্তে মানিকতলা হইতে সাধারণ দিশি