পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২২৬ রবীন্দ্র-রচনাবলী আসিতেছে। এখন বারবার মনে করিতেছে, সেখানে ছিলাম ভালো, চলিয়া আসা অন্তায় হইয়াছে।’ মন্দাও তো কম বেহায়া নয়। একলা অমলের সহিত একঘরে বসিয়া দাত বাহির করিয়া হাসিতেছে। লোকে দেখিলে কী বলিবে । কিন্তু মন্দাকে এ কথা লইয়া ভ<সন করা চারুর পক্ষে বড়ো কঠিন। কারণ, মন্দা যদি তাহারই দৃষ্টাস্তের উল্লেখ করিয়া জবাব দেয়। কিন্তু সে হইল এক, আর এ হইল এক। সে অমলকে রচনায় উৎসাহ দেয়, অমলের সঙ্গে সাহিত্যালোচনা করে, কিন্তু মন্দার তো সে উদ্দেশ্য আদবেই নয়। মন্দা নিঃসন্দেহই সরল যুবককে মুগ্ধ করিবার জন্য জাল বিস্তার করিতেছে । এই ভয়ংকর বিপদ হইতে বেচারা অমলকে রক্ষা করা তাহারই কর্তব্য । অমলকে এই মায়াবিনীর মতলব কেমন করিয়া বুঝাইবে । বুঝাইলে তাহার প্রলোভনের নিবৃত্তি না হইয়া যদি উলটা হয়। বেচারা দাদা ! তিনি র্তাহার স্বামীর কাগজ লইয়া দিন রাত খাটিয়৷ মরিতেছেন, আর মন্দা কিনা কোণটিতে বসিয়া অমলকে ভুলাইবার জন্য আয়োজন করিতেছে। দাদা বেশ নিশ্চিস্ত আছেন । মন্দার উপরে তার অগাধ বিশ্বাস । এ-সকল ব্যাপার চারু কী করিয়া স্বচক্ষে দেখিয়া স্থির থাকিবে । ভারি অন্যায় । কিন্তু আগে অমল বেশ ছিল, যেদিন হইতে লিখিতে আরম্ভ করিয়া নাম করিয়াছে সেই দিন হইতেই যত অনর্থ দেখা যাইতেছে। চারুই তো তাহার লেখার গোড়া। কুক্ষণে সে অমলকে রচনায় উৎসাহ দিয়াছিল। এখন কি আর অমলের পরে তাহার পূর্বের মতো জোর খাটিবে। এখন অমল পাঁচজনের আদরের স্বাদ পাইয়াছে, অতএব একজনকে বাদ দিলে তাহার আসে যায় না। চারু স্পষ্টই বুঝিল, তাহার হাত হইতে গিয়া পাচজনের হাতে পড়িয়া অমলের সমূহ বিপদ। চারুকে অমল এখন নিজের ঠিক সমকক্ষ বলিয়া জানে না ; চারুকে সে ছাড়াইয়া গেছে। এখন সে লেখক, চারু পাঠক । ইহার প্রতিকার করিতেই হইবে। আহা, সরল অমল, মায়াবিনী মন্দা, বেচার দাদা । ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ সেদিন আষাঢ়ের নবীন মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন। ঘরের মধ্যে অন্ধকার ঘনীভূত হইয়াছে বলিয়া চারু তাহার খোলা জানালার কাছে একান্ত ঝুকিয়া পড়িয়া কী একটা লিখিতেছে।